বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে সম্ভ্রম রক্ষা

0
170
বিশ্ব বার্তা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে বাস চালক ও হেলপার মিলে তার অশ্লীলতা কাহানির চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্ট: ফেনীর, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর নুসরাত জাহান রাফি, কে পুড়িয়ে হত্যার একদিন যেতে না যেতেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন ছাত্রীকে বাস চালক ও হেলপার মিলে তার অশ্লীলতা কাহানির চেষ্টা করলে, ছাত্রী চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে তার সম্ভ্রম রক্ষা করেন।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ মহসিন বলেন, ওই শিক্ষার্থী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বাসটির চালক ও সহকারীকে আসামি করা হলেও বাসের নাম্বার দিতে পারেননি তিনি। ছাত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন তিনি বাসের ভিতর থেকে বাইরে লাফ দিলে বাসটি দ্রুত এই স্থানটি পরিত্যাগ করে পালিয়ে যায়, যদি বাসের ভিতর গাড়ির নাম্বার দেয়া থাকতো তাহলে সেখান থেকে নাম্বারটি কালেক্ট করা যেত।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান প্রত্যেকটি বাসের ভিতর বাধ্যতামূলকভাবে গাড়ির নাম্বার এবং গাড়ির মালিকের নাম্বার ও সন্নিকটে তাকা পুলিশ ফাঁড়ির মোবাইল নাম্বার দেয়া থাকতো তাহলে সাধারণ যাত্রী বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা যেত।

ওই গাড়িটির বাস চালক হেলপার এবং ওই গাড়িকে হয়তো পুলিশের তদন্তের বের হয়ে আসবে কিন্তু, প্রত্যেকটি গাড়ির ভিতর নাম্বার দেয়া থাকতো তাহলে ওই গাড়ির স্টাপ কিংবা অন্য কোনো যাত্রী যেকোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ করতে সাহস পেত না।

অনেক সময় দেখা যায় গাড়ির সামনে-পেছনে প্লেটে থাকা নাম্বার গুলো অস্পষ্ট থাকার কারণে অভিযুক্ত গাড়িটিকে সনাক্ত করা কিংবা এর প্রতি যে কোন ব্যবস্থা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ব্যাপারেও ঠিক ঐ রকম ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রীর অভিযোগ করা বাস, ড্রাইভার ও সহকারীকে শনাক্ত করে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন বলে ওসি মহসিন জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অভিযোগকারী ছাত্রী জানান ওই দিন বৃহস্পতিবার বিকালে ক্লাস শেষ করে ১ নং গেট থেকে ৩ নং রুটের বাসে উঠেন। বাসটি নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় পৌঁছলে বাস সকল যাত্রী নেমে যায়। ওই সময ছাত্রী বাসের মধ্যে একা হয়ে যান, বাস চালক ও হেলপার সেই সুযোগে রোড পরিবর্তন করে স্টেশন রোডের দিকে চলতে শুরু করলে ছাত্রীটি আতঙ্কিত হয়ে বাসের চালককে বাসটি থামাতে বলেন কিন্তু, চালক বাস আরো জোরে চালাতে থাকলে এবং হেলপার মেয়েটির ওড়না দিয়ে মেয়েটির গলায় পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তখন মেয়েটির হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে হেলপারের মাথায় আঘাত করে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে তার সম্ভ্রম রক্ষা করে।

বি আর টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের নিকট জনগণের জোর দাবি ছোট-বড় প্রত্যেকটি গাড়িতেই যেন ফিটনেস এর অংশ হিসাবে গাড়ির ভেতরে গাড়ির নাম্বার এবং গাড়ির মালিকের নাম্বার বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়।

আপনার মতামত দিন