কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টির ফলে বন্যায় তলিয়ে গেছে ফসল ও ঘরবাড়ি

0
36
কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টির ফলে বন্যায় তলিয়ে গেছে ফসল ও ঘরবাড়ি
কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টির ফলে বন্যায় তলিয়ে গেছে ফসল ও ঘরবাড়ি

কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টির ফলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ফলে বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের ফসল ও ঘরবাড়ি।

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আদমপুরের লাউয়াছড়ার নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ভানুবিল, মাঝেরগাঁও ও ছনগাঁও এলাকার কৃষকের পাকা ধান ও গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এই বন্যায় অনেক জায়গায় মাটির তৈরি ঘর রাস্তা ভেঙে গেছে।

কৃষি অধ্যুষিত আদমপুরের এই অঞ্চলে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্যায় কবলিত এই এলাকার যাতায়াতের সড়কগুলো এখন নদীর মতো পানিতে ভাসছে। দূর থেকে বোঝার উপায় নেই এটি সড়ক নাকি প্রবাহমান কোনো নদী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বোরো চাষের সুবিধার্থে লাউয়াছড়ার ওপর নির্মিত একটি সুইস গেট (বাঁধ) এই দুর্যোগের অন্যতম কারণ। বর্ষা মৌসুমে গেটটি ওপরে তুলে রাখার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টিতে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারেনি। একপর্যায়ে ছড়ার বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি আশপাশের ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। এতে ধানসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যায় এবং বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবদাল হোসেন বলেন, “বর্ষা মৌসুমে সুইস গেট না তোলা এবং এই নদী খনন না করার কারণেই পাড় ভেঙে বন্যা দেখা দিয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, “অতিবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও বন্যার কারণে এই উপজেলার প্রায় ২৭০ হেক্টর ধানি জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন