অবশেষে প্রবাসী কাজলের স্ত্রী সন্তনদের হত্যাকারীকে আটক করেছ র‌্যাব-১

0
265
অবশেষে প্রবাসী কাজলের স্ত্রী সন্তনদের হত্যাকারীকে আটক করেছ র‌্যাব-১
অবশেষে প্রবাসী কাজলের স্ত্রী সন্তনদের হত্যাকারীকে আটক করেছ র‌্যাব-১

বিশ্ববার্তা ডেস্ক: গত পাঁচদিন আগে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রী’ দুই মেয়ে ও এক পুত্র সন্তানকে নৃশংসভাবে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে গলাকেটে ও কু‌‌পিয়ে হত্যার ‘মাস্টার মাইন্ড’ কাজিম উদ্দিন (৫৫) ও অপর ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।

র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন,২৭ এপ্রিল দুপুর সোমবার ১২টার দিকে শ্রীপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হত্যার আলামত সংগ্রহ করেছে র‌্যাব-।

আরোও পড়ুন: কমলগঞ্জে বমি পর যুবকের মৃত্যু করোনা সন্ধেহে নমুনা সংগ্রহ

গ্রেফতাররা হলেন- শ্রীপুর উপজে’লার জৈনাবাজার আবদার গ্রামের কাজিম উদ্দিন, বশির, সমির, হেলাল, হানিফ ও আলামিন। এদের মধ্যে বশির ও সমির কাজিম উদ্দিনের ভাতিজা। সবার বাড়ি শ্রীপুরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজোয়ান হোসেন কাজল ও হত্যার মাস্টার মাইন্ড কাজিম উদ্দিনের বাড়ি শ্রীপুরের জেনাবাজার এলাকার আবদার গ্রামের আব্দুল আউয়াল কলেজের পাশে।

আরোও পড়ুন:বিশাল আকৃতির গ্রহাণু বুধবার পৃথিবী অতিক্রম করবে

কাজলের বিদেশে থাকার সুবাদে বিভিন্ন প্রয়োজনে তার স্ত্রী’-সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কাজিম ও তার দুই ছেলে পারভেজ ও সজীবের। নিয়মিত তারা বাড়িতে যাতায়াতও করতেন। কাজিমের স্ত্রী’ বিদেশে থাকেন।

গত ২২ এপ্রিল দিনের কোনও এক সময় কাজিম উদ্দিনের বাড়িতে বসে প্রবাসী কাজলের বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করে পুরো পরিবারটি। আগেও কাজলের বাড়িতে কাজিম উদ্দিনের ছেলে পারভেজ চুরি করেছেন।পরে ধরা পড়ার পর বিচার-সালিশও করেছেন স্থানীয় মাতব্বররা।

চুরির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ এপ্রিল মধ্যরাতে দুতলা ভবনে বেয়ে উঠে ২-৩ জন বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে উপরের তলায় প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকে পেছনের দরজা খুলে দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে ৭-৮ জন ঘরে ঢুকে। আসবাব থেকে নগদ টাকা ও সোনা গয়না চু’রির সময় শব্দ পেয়ে কাজলের বড় মেয়ে নুরা (১৪) ও ছোট মেয়ে হাওরিন (১১) টের পেয়ে যায়।

এরপর দুই মেয়েকে সবাই মিলে পালাক্রমে একের পর এক ধর্ষণ করে।শব্দ পেয়ে তাদের মা ফাতেমা আক্তার (৪০) তাদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও ধর্ষণ করে।

ধর্ষণ করার পর বটি দিয়ে কু‌‌পিয়ে ও গলাকেটে  হত্যা করে মা ও মেয়েকে এমনকি। তাদের টার্গেট থেকে রক্ষা পায়নি কাজলের ৬ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিলও। তাকেসহ সবাইকে বটি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়।

আধাঘণ্টার মধ্যে মিশন শেষ করে পেছনের দরজা দিয়ে ঘাতকরা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। কোনও অপরাধী ঘটনা ঘটিয়ে এলাকা ছেড়ে পালাননি।

লুট করে নেয়া নগদ অর্থ, সোনা-গয়না ভাগভাটোয়ারার পর কাজিমের মেয়ে স্থানীয় একটি জুয়েলারি দোকানে সোনার আংটি গলিয়ে নতুন করে তৈরির জন্য অর্ডার দিয়েছিলেন।

সূত্রটি আরও জানায়, আজ দুপুর ১২টার দিকে চুরি যাওয়া নগদ অর্থ, সোনা-গয়না, রক্তমাখা গেঞ্জি, লুঙ্গি ও জিন্স প্যান্টসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে র‌্যা’­ব-১ সদস্যরা। মূলত ওই ঘাতক পরিবারটির পেশা চুরি, নেশা মাদক সেবন ও জুয়া খেলা।

এদিকে, রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজারের আবদার গ্রাম থেকে কাজিম উদ্দিনের ছে’লে পারভেজকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

জানা যায় ঘাতক পারভেজ ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নীলিমা নামে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছিলেন। এ ঘটনায় পারভেজের বিরুদ্ধে শিশুটির বাবা মা’মলা দায়ের করেন।পরে বয়স বিবেচনায় হাই’কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয় পারভেজ।

আপনার মতামত দিন