১০ মিনিটের কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড – কমলগঞ্জ

0
143
bissobarta.com
কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড

স্টাফ রিপোর্ট : মাত্র ১০ মিনিটের প্রবল কাল বৈশাখী ঝড়ে কমলগঞ্জের সড়ক পথ, রেল পথ ও বৈদ্যুতিক সংযোগসহ দুইশতাধিক ঘর বিধস্ত হয়েছে

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে রোববার ২৮ এপ্রিল দুপুরে বয়ে যাওয়া ১০ মিনিটের কাল বৈশাখী ঝড়ে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার, শমশেরনগর, মুন্সিবাজার ও পৌরসভা এলাকায় প্রায় দুইশতাধিক ঘর বিধস্ত হয়েছে।

উপড়ে পড়েছে হাজারো গাছ পালা। বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ-কুলাউড়া সড়কে শমসেরনগর এয়ারপোর্ট রোডে ব্যাপক পালা গাছ পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া লাউয়াছড়া পাহাড়ে রেল লাইনের উপর গাছ পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঢাকা গামী পারাবত এক্সপ্রেস ও সিলেট গামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া রেললাইনে আটকা পড়েছে। বিদ্যুৎ লাইন লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার করণে বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো কমলগঞ্জ।

উপজেলার উপর দিয়ে প্রচন্ড কাল বৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের সাথে ছিল বিকট শব্দের বজ্রপাত।
বজ্রপাতে এক কৃষকের ৪০ হাজার টাকার মহিষ মৃত্যু হয়েছে।এতে উপজেলাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পতনউষারের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ এর ১১ কেভি লাইন ছিড়ে পড়েছে। এছাড়া পতনউষার গ্রামের আলাল মিয়া, দক্ষিনপল্কী গ্রামের বিধবা মহিলা আগুরী বিবিসহ প্রায় ২০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়। অপরদিকে, একই সময় সমসেরনগর, মুন্সিবাজার ও কমলগঞ্জ পৌরসভায় ঝড়ে প্রায় শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়। কমলগঞ্জ আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজে আধাপাকা একাডেমিক ভবনের টিন ছাউনিসহ পৌরসভার ৫, ১, ২ নং ওয়ার্ডের ঘরের টিন উড়িয়ে নিয়েছে। কয়েক শতাধিক গাছ পালা উপড়ে পড়েছে। গ্রামঞ্চলের বিদ্যুত এর তার ছিড়ে পড়েছে। ৩টি ইউনিয়নে শতাধিক ঘর আংশিক বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় শতাধিক স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিড়ে পড়েছে। ঝড়ে বেশি গাছপালা বিধস্ত হয়েছে সমসেরনগর এলাকায়। বিমান ঘাটি এলাকার কুলাউড়া সড়কের উপর অধর্শতাধিক গাছ পালা ভেঙ্গে পড়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

পতনউষার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নারায়ন মল্লিক সাগর জানান, তার ইউনিয়নে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বিধস্ত ঘর হওয়ায় খোলা আকাশে বসবাস করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোবারক হোসেন জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রায় শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে ১ দিন লেগে যাবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার সুমি আক্তার বলেন, বিষয়টি জানেন তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা আসলে পরে ব্যবস্থা করা হবে।

আপনার মতামত দিন