উন্নয়নের প্রকল্পের কাথা বলে সুন্দরবন আজ চরম হুমকির মুখে

0
245
উন্নয়নের প্রকল্পের কাথা বলে সুন্দরবন আজ চরম হুমকির মুখে
উন্নয়নের প্রকল্পের কাথা বলে সুন্দরবন আজ চরম হুমকির মুখে

বিশ্ববার্তা ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। কিন্তু দেশের উন্নয়নের প্রকল্পে কাথা বলে বিশ্বঐতিহ্যের তালিকায় থাকা সুন্দরবন আজ চরম হুমকির মুখে।

সরকারের দাবি, রামপাল প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। ফলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। তারপরও সম্প্রতি জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। এই ঝুুকির মুখেই সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সাড়ে চার কিলোমিটারের মধ্যে একটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ১০০ মেগাওয়াটের ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে পাওয়ারপ্যাক-মুতিয়ারা নামে একটি বেসরকারি কোম্পানি।

এখানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে সুন্দরবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। পরিবেশ অধিদপ্তরও এ প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র বিষয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়ে

পাওয়ারপ্যাক এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটির অনুমোদন পেয়েছিল ২০১২ সালে। পরে বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা বারবার বাড়িয়ে নেয় কোম্পানি। ২০১৭ সালের দিকে পাওয়ারপ্যাক এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সুন্দরবনের পাশে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপনের জন্য সরকারি সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির কাছে আবেদন করে।

এ বিষয়ে পিডিবির প্রাথমিক সম্মতি পেয়ে তারা পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা বা এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) সম্পন্ন করে। গত ২৮ মার্চ তা অনুমোদনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। এর আগে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ইআইএ’র কার্যপরিধি অনুমোদিত হয়। 

মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি মোংলা বন্দরসংলগ্ন মোংলা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) পাশেই ২০৫ একর এলাকা নিয়ে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছে।  এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আগামী ৫০ বছরের জন্য উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পেয়েছে পাওয়ারপ্যাক।

প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইআইএ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর দেখতে পায়, প্রকল্পটি সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনের প্রান্তসীমা থেকে সাড়ে চার কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত,যা সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) মধ্যেই পড়েছে। এ প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র দিতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন বলে মনে করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তাই সংস্থাটি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়ে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে।

গত ৫ মে পরিবেশ ও বন সচিবকে লেখা এ পত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ এর তফসিল-১ অনুযায়ী পাওয়ারপ্যাকের এ প্রকল্পটি ‘লাল’ বা বিপজ্জনক শ্রেণিভুক্ত।

আরোও পড়ুন: শ্রীমঙ্গলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তা প্রদান ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় পরিবেশ কমিটির ৪র্থ সভার সিদ্ধান্ত (৩.৪.৩) অনুসারে সুন্দরবন ইসিএ’র মধ্যে লাল শ্রেণির যেমন ট্যানারি, ডাইং ও ওয়াশিং, সিমেন্ট, তামাক, ইট, টায়ার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পাইরোলাইসিস জাতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে করা রিট মামলায় (১২৪৬৭/২০১৭) সুন্দরবন ইসিএতে কোনো ধরনের নতুন শিল্প স্থাপন না করার নির্দেশনা রয়েছে।

আপনার মতামত দিন