মীম হত্যা মামলার আসামী আটক না করায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

0
52
মীম হত্যা মামলার আসামী আটক না করায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মীম হত্যা মামলার আসামী আটক না করায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মীম হত্যা মামলার আসামী আটক না করায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন। কমলগঞ্জের মাধবপুরে বখাটে এক যুবকের দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে স্কুলছাত্রী মীম আক্তার (১৫) আত্মহত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্কুল সহপাঠী ও এলাকাবাসী। ঘটনার আটারো দিন পার হয়ে গেলেও এখনো প্রধান অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়া গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে  মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তার স্কুল সহপাঠী ও শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখ সড়কে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ,শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান, সহপাঠী সোহানা আক্তার, নেহা আক্তার, সুমন মিয়া, বেলাল আহমেদ সহ মীমের অভিভাবক মনির মিয়া, চাচাতো বোন শরীফা আক্তার,ফুফু আম্বিয়া বেগম,চাচী রেহানা বেগম ও মামা মিলন মিয়া বক্তব্যে বলেন মীম আক্তারের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী সানোয়ারের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানান। ঘটনার আটারো দিন পার হয়ে গেলেও এখনো প্রধান অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়া গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। 

বক্তারা আরো বলেন, মীমের মতো আর কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন যেন এভাবে বখাটেদের কারণে ঝরে না যায়। ভিডিও বার্তার মতো স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও মূল অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়া এখনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে বখাটে সানোয়ারকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনে, তবে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, নিহত মীম আক্তার উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রামের মনির মিয়ার মেয়ে এবং মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সানোয়ার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মীমকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মীম আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। আত্মহত্যার আগে ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় মীম তার এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য অভিযুক্ত সানোয়ার মিয়ার ব্ল্যাকমেইল ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যায়।

 লাগাতার ব্ল্যাকমেইলের কারণেই মীম বিষপানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। বিষপানের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় মীমকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ২২ মে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মীমের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কমর উদ্দিন জানান,আসামী মুঠোফোন ব্যবহার না করায় তার লোকেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা,তবে তাকে ধরতে সবধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন