লাউয়াছড়ায় মোবাইল টাওয়ার- !হুমকীর মুখে জীববৈচিত্র্য! বিশেষজ্ঞরা

1
199
bissobarta.com
Lawachara National Park

স্টাফ রিপোর্ট: লাউয়াছড়ায় মোবাইল টাওয়ার- !হুমকীর মুখে জীববৈচিত্র্য! বলেন প্রাণীবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত এলাকা ’লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান’ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই টাওয়ার বসাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম কোম্পানি ’টেলিটক’।

পশুপাখির সংরক্ষিত এমন এলাকায় মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানোর ফলে লাউয়াছড়া বন ও বন্যপ্রাণী চরম হুমকিতে পড়বে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

উদ্ভিদ ও প্রাণী বিজ্ঞানীরা বলছেন টাওয়ারের রেডিয়েশনের কারণে পাখিদের ডিম নষ্ট হয়ে যাবে। এমন কি পাখিদের বাচ্চা মারা যাবে, পরিপক্ক পাখিরাও বিভিন্ন অসুখের শিকার হয়ে মারা যাবে।

অন্যদিকে এই টাওয়ার এর পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন বাংলাদেশ আইসিটি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। তিনি এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তার ফেইসবুকের একটি পোস্টে বলেছেন, “আমি অন্তত একটি বিষয় বুঝতে পারি না যে, ডিজিটাল যুগে বসে আমাদের ভাবনা টা এত পেছনে কেন? লাউয়াছড়ায় টেলিটক এর টাওয়ার বানানো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই টাওয়ারে গাছপালা ও বন্যপ্রাণী নাকি ক্ষতি হবে? আমি বুঝিনা টাওয়ার ছাড়া লাউয়াছড়ার মানুষ কিভাবে নেটওয়ার্ক পাবে? ওখানে যদি টাওয়ার ক্ষতিকারক হয় তবে মানুষ যেখানে বসবাস করে সেখানে টাওয়ার কেন? সব টাওয়ার বন্ধ করে দিলে কেমন হয়!”

পরিবেশ অধিদপ্তর এর অনুমোদন ছাড়াই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ভেতর টাওয়ার স্থাপন করলে জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী ও প্রাণিবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়াও এই বনের ভিতর নেটওয়ার্ক স্থাপন করলে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক আরো শক্তিশালী হবে যার ফলে চোর চক্র এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সহজেই বোনের বিতর অপকর্ম করতে পারবে। তাতে নষ্ট হবে জীববৈচিত্র্য।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান জানান, টাওয়ারের রেডিয়েশন যে কোন প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর, আর এই বনাঞ্চলটি বন্য প্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত। তাই এখানে টাওয়ার নির্মাণ করার কি দরকার? বন্যপ্রাণীদের কোন টাওয়ারের প্রয়োজন নেই? যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ ধ্বংস করে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। সেখানে এই সংরক্ষিত বনের ভিতর মোবাইল ফোনের টাওয়ার নির্মাণের চিন্তাভাবনা আসলো কোথা থেকে?

লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনে সদস্য সচিব আবুল হাসান বলেন, এমনিতেই লাউয়াছড়া নানা কারণে হুমকির সম্মুখীন তার ওপর যদি এভাবে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা হয় তাহলে এই রেডিয়েশন এর প্রভাবে পশু পাখির ডিম সহ বিলুপ্ত হয়ে যাবে সকল পশু পাখি। এমনিতেই সারা বিশ্বে এমনকি বাংলাদেশ পশু পাখির সংখ্যা একেবারেই নিম্নে চলে আসছে। এই এলাকা থেকে টেলিটকে সরে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা এই রকম কাজের জন্য কোন অনুমতি দেয়নি। তবে সংরক্ষিত বনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বন বিভাগ দেখে।

সহকারী বন-সংরক্ষক আবদুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দুই কিলোমিটার ভেতরে মোবাইল টাওয়ার বসানোর কোন অনুমতি নেই। টাওয়ারের রেডিয়েশন এর কারণে জীব বৈচিত্রের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। আমরা এখানে কোন অবস্থাতেই টাওয়ার বসাতে দেব না।

টেলিটক কোম্পানি ঠিকাদার আসোক জানান, তারা বন বিভাগকে জানান নি এবং বন বিভাগ ও এখন পর্যন্ত কোনো আপত্তি জানায়নি সম্প্রতি বিট কর্মকর্তা এসে টাওয়ার বসানোর জায়গা দেখেও গেছেন।
ঠিকাদার কে পরিবেশ অধিদপ্তর এর অনুমোদন আছে কি না এমন প্রশ্ন জানতে চাইলে তিনি তার কোনো উত্তর দেননি।

সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) শামসুল মোহিত চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, আমরা বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেছি, তারা যদি বলেন টাওয়ার বনের জন্য ক্ষতিকর তাহলে আমরা বন্ধ করে দেব। তবে বর্তমানে কাজ বন্ধু আছে। এখন পর্যন্ত আমাদের থেকে কোন অনুমোদন তারা নেননি।

আপনার মতামত দিন