রাজকান্দি বন রেঞ্জে বন বিট কর্মকর্তার বিরোদ্ধে বনভূমি লিজ বাণিজ্যের অভিযোগ

0
74
রাজকান্দি বন রেঞ্জে বন বিট কর্মকর্তার বিরোদ্ধে বনভূমি লিজ বাণিজ্যের অভিযোগ
রাজকান্দি বন রেঞ্জে বন বিট কর্মকর্তার বিরোদ্ধে বনভূমি লিজ বাণিজ্যের অভিযোগ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের অধীন আদমপুর, কামারছড়া ও কুরমা বন বিটের প্রায় ৬ হাজার একর বনভূমি টাকার বিনিময়ে পান চাষের জন্য লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, বনায়নের নামে বনভূমি পরিষ্কার করে পান জুম চাষের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজকান্দি বন রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বনভিলেজার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও পান চাষ করছেন। এ জন্য বনভূমির বাঁশঝাড় ও ঝোপঝাড় কেটে জমি পরিষ্কার করা হচ্ছে। অতীতে এসব এলাকার বাঁশ সরকার নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে রাজস্ব আদায় করলেও কয়েক বছর ধরে নিলাম বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে গোপনে বাঁশ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে সেই জমি নতুন বনায়নের নামে পান চাষিদের কাছে লিজ দেওয়া হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আদমপুর বন বিটের বড়জুড়ি, পেকির মাথা, জগাই মাথা,জগাই, ডাইনর গাং, লালছড়ি বাঘাছড়া, ডালুয়াছড়া, রানি, আলামবাড়ি, লাউয়াছড়া ও ডাইনের সম্পদ এলাকায় প্রায় ৪ হাজার একর বনভূমিতে পান চাষ হচ্ছে। কামারছড়া বন বিটের রাঙ্গিছড়া, দিনাতের বাড়ি, ছাগলডেমা, এরাব টিলা ও জ্বালানি টিলা এলাকায় ১ হাজার একরেরও বেশি বনভূমি পান চাষের আওতায় এসেছে। এছাড়া কুরমা বন বিটের কেতলাং, পেকি-১, পেকি-২, প্রকাশ ও ফিকল এলাকায় প্রায় ১ হাজার একর বনভূমিতে পান জুম গড়ে তোলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বনভিলেজার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বনায়নের নামে পান চাষের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে নামপ্রতি ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে, কেউ কেউ দুই, থেকে তিন নাম নিয়েছেন তবে যাদের টাকা বেশি তারা ৫ থেকে ১০ নাম পর্যন্ত নিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, সবচেয়ে বেশি বনভূমি লিজ দেওয়া হয়েছে আদমপুর বন বিট এলাকায়।এদিকে রাজকান্দি বন রেঞ্জের কামারছড়া বন বিট কর্মকর্তা আহমেদ আলী এবং আদমপুর বন বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের বিরুদ্ধে বনভিলেজার ও খাসিয়া আদিবাসীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নতুন ঘর নির্মাণ করতে গেলেই টাকা দিতে হয়। ইটের পাকা ঘরের জন্য ৫০ হাজার টাকা, মাটির ঘরের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং বাঁশ-বেতের ঘরের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেউ এসব অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে গাছ কাটার মতো বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। সম্প্রতি এক বনভিলেজার নতুন ইটের ঘর নির্মাণের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও আরও অর্থ দাবি করা হলে তিনি আপত্তি জানান। পরে আদমপুর বন বিট কর্মকর্তা বন প্রহরীদের নিয়ে এসে তার কমলাবাগান কেটে ফেলা হয় এবং বাধা দিতে গেলে তাকে বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এনটিভির একজন প্রতিনিধি এসব তথ্য সংগ্রহ শুরু করলে কামারছড়া বন বিট কর্মকর্তা আহমেদ আলী দ্রুত অন্যত্র বদলি হয়ে যান। তবে আদমপুর বন বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার এখনও দায়িত্বে রয়েছেন।

এ বিষয়ে কামারছড়া বন বিট কর্মকর্তা আহমেদ আলী সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবং নিজের সাফাই করলেন, অন্যদিকে অর্জুন কান্তি দস্তিদার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি নাম্বার ব্লক করে দেন, একাধিক দিন, একাধিক বার আদমপুর বন বিট অফিসে গিয়েও বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার পাওয়া যায় নি, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্পাদক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাননি। বনভূমিতে বনায়নের নামে পান জুম চাষ ও খাসিয়া আদিবাসী ও বন ভিলেজারদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে রাজকান্দি বন রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক প্রীতম বড়ুয়া বলেন এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না, বিষয়ে তদন্ত করে উদ্বোধন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে ব্যবস্হা নেওয়া হবে বলে জানান।

পরিবেশকর্মীদের মতে, বনভূমিতে অনিয়ন্ত্রিত পান চাষের কারণে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস হচ্ছে, কমছে জীববৈচিত্র্য এবং সংকুচিত হচ্ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। একই সঙ্গে বন উজাড়ের ফলে পরিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশকর্মী, বনভিলেজার ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা পান জুম অপসারণ করে সেখানে পুনরায় বনায়ন, বনভূমি লিজ দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত এবং বনভিলেজার ও আদিবাসীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত দিন