মাধবপুর লেক উন্নয়ন কাজে বরাদ্দকৃত ৪৬ লাখ টাকা ফেরত যাওয়া আশঙ্কা

0
52
মাধবপুর লেক
মাধবপুর লেক

নিজস্ব প্রতিবেদন: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা পর্যটন সম্পদে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেয় অবকাটামোগত উন্নয়নের অভাবে তা পর্যটকদের কাছে আকষর্ণীয় করে তোলা যাচ্ছে না।

তাই পর্যটকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ‘মাধবপুর লেক’ পর্যটনকেন্দ্রটিতে অবকাটামোগত উন্নয়ন ও আরও পর্যটক বান্ধব করে তুলতে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বাংলাদেশপর্যটন কর্পোরেশনকে আবেদন জানায়। কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আবেদনে বাংলাদেশপর্যটন কর্পোরেশন মাধবপুর লেক উন্নয়নের জন্য সাড়ে ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহন করে।

দেশী বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম স্থান হচ্ছে লাউয়াছড়াজাতীয় উদ্যান ও মাধবপুর লেক।দিনে দিনে মাধবপুর লেক সহ অন্য অন্য আকষর্ণীয় এ এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েই চলেছে।তবে পর্যটকদের সেবা দানে মাধবপুর লেকের উন্নয়নে পর্যটন কর্পোরেশণ সাড়ে ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিলেও ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি) আপত্তি করলে এই টাকা ফেরৎ যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর লেকে আসা পর্যটক বহনকারী যানবাহন প্রবেশকালে এনটিসির মালিকানাধীণ মাধবপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষ একটি টোকেনের মাধ্যমে টাকা আদায় করেন। তবে চা বাগানের চার দিকের উঁচু টিলার মধ্যবর্তী প্রায় ১ বর্গ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা অপরুপসুন্দর মাধবপুর লেকে পর্যটকদের সেবা দানে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই।

লেক এলাকায় একটিছোট ছাউনী ও একটি ছোট টয়লেট ছাড়া আর কোন ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া সঠিকভাবে লেকটি পরিচর্চা ও আগত পর্যটকদের তদারকের ও কোনব্যবস্থা নেই।পর্যটকদের আরো আকৃষ্ট করে তাদের সেবা ও নিরাপত্তা প্রদানে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আবেদনে বাংলাদেশপর্যটন কর্পোরেশন মাধবপুর লেক উন্নয়নে সাড়ে ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহন করে।

গৃহীত প্রকল্পটির কাজ শুরুর উদ্যোগ নিয়ে মাধবপুর চাবাগান ব্যবস্থাপক এনটিসির বোর্ডের অনুমতি ছাড়া এ কাজটি করা যাবে না বলে বাধা প্রদান করেন। এ অবস্থায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃআশেকুল হককে জানান, এনটিসি কর্তৃপক্ষ তাদের বোর্ড মাধবপুর লেক উন্নয়নে অনুমতি দেয়নি।তাই লেক উন্নয়নে পর্যটন কর্পোরেশনকোন কাজ করতে পারবে না। মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু জানান, এনটিসিও সরকারি প্রতিষ্ঠান আর পর্যটন কর্পোরেশনও সরকারি প্রতিষ্ঠান।আর সরকারি জমি বন্দোবস্ত নিয়ে চা বাগানকরা হয়েছে।এখানে মাধবপুর লেকের পর্যটন উন্নয়নে একটি প্রকল্প গ্রহন করা হলেও কিভাবে এনটিসি আপত্তি জানায় আমার বুঝে আসেনা ?

তিনি মনে করেন জেলাপ্রশাসক চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে মাধবপুর লেকের উন্নয়নের কাজ করতে পারেন। মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোরাদ চৌধুরী বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন।এ সম্পর্কে তিনিকিছু বলতে পারবেন না।পরবর্তীতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিসির জনৈক জিএম বলেন, এলাকাটি চা বাগানভুক্ত বলে এনটিসির বোর্ডের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

তাই স্থানীয়ভাবে মাধবপুরলেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে তাদের আপত্তি রয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশেকুল হক এনটিসির আপত্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ আপত্তি প্রত্যাহার না করলে পর্যটন কর্পোরেশনের বরাদ্ধকৃত টাকা ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

লেক টিকে জেলা প্রশাসন ভুক্তকরতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমেও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে নতুন করে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। জমিটুকু সরকারের আর এনটিসি বন্দোবস্ত নিয়ে চা প্লান্টেশন করেছে মাত্র।

তিনি মনে করেন এক সময় এনটিসি তাদের আপত্তি প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, চাবাগান কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের যানবাহন থেকে টোকেনের মাধ্যমে যে আয় করছে তার বৈধতা নিয়েও খতিয়ে দেখা হবে।

আপনার মতামত দিন