প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তায় ব্যাপক অনিয়মঃ একই মোবাইল নাম্বার ২০০ বার ব্যবহার

0
191
প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তায় ব্যাপক অনিয়মঃ একই মোবাইল নাম্বার ২০০ বার ব্যবহার
প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তায় ব্যাপক অনিয়মঃ একই মোবাইল নাম্বার ২০০ বার ব্যবহার

বিশ্ববার্তা ডেস্ক: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রধানমত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। দেখা গেছে সাড়ে ছয় হাজার পরিবারের এই তালিকায় একই মোবাইল নাম্বার ২০০ বার ব্যবহার হয়েছে  ।

এছাড়াও অভিযোগ ওঠেছে এসব তালিকায়  রয়েছে অনেক বিত্তশালীর নাম এবং জনপ্রতিনিধির আত্মীয়-স্বজনের নামও।

আরোও পড়ুন: কমলগঞ্জে করোনা রোগীকে রাতের আঁধারেই প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌছে দিলেন ইউএনও

এই অনিয়মের কারণে অনেক অসহায় অস্বচ্ছলের প্রণোদনা পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। জাতির এামন সংকটময় অসহায় হয়ে পড়া মানুষদের তালিকায় এই অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল। এ নিয়ে জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। উপকারভোগীরাও পড়েছেন অনেক দুশ্চিন্তায়।

জানা যায়, লাখাই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ছয় হাজার ৭২০টি পরিবার পাচ্ছে নগদ আড়াই হাজার করে সরকারি এই নগদ অর্থ সহায়তা। এর মধ্যে লাখাই ইউনিয়নে  এক হাজার ১৯৪ জন, মোড়াকরি  এক হাজার ১১৩,  মুড়িয়াউক  এক হাজার ১৭৬, বামৈ  এক হাজার ২৪৬, করাব  এক হাজার ৬ ও বুল্লা ইউনিয়নে রয়েছেন ৯৮৫ জন। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের নিকট খসড়া তালিকা জমা দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

আরোও পড়ুন: বরগুনায় সরকারি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত

কিন্তু এইসব তালিকা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মুড়িয়াউক ইউনিয়নে ৩০৬ জনের নামের সাথে মাত্র  চারটি মোবাইল নম্বর ব্যবহৃত হয়েছে । আর এই নাম্বারগুলো পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাইয়ের ঘনিষ্টজনদের।

এছাড়া তালিকায় যুক্ত হয়েছে অনেক বিত্তশালী ও জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়-স্বজনের নাম।এমন কি রয়েছেন স্বামী-স্ত্রীসহ এক পরিবারের একাধিক সদস্যও। একটি ওয়ার্ডে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাস না থাকলেও লেখা হয়েছে তাদের নাম। অসংখ্যবার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারগুলো হলো, ০১৯৪৪৬০৫১৯৩, ০১৭৪৪১৪৯২৩৪, ০১৭৮৬৩৭৪৩৯১ ও ০১৭৬৬৩৮০২৮৪। এছাড়া আরও ৩০টি নাম্বর ব্যবহার করা হয়েছে ১০ থেকে বারো জনের নামের পেছনে।

শুধু মুড়িয়াউকই নয়; উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নেই এ ধরনের ভুল হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ২০০ বার একেকটি মোবাইল নম্বর ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত এক কর্মচারী। যা ভুলবশত হয়েছে এবং শিগগিরই এগুলো সংরক্ষিত করে হালনাগাদ তালিকা চূড়ান্ত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে মুড়িয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাই জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরির কারণে ভুল হয়েছে। অসংখ্যবার মোবাইল নম্বর ব্যবহারের ভুলটি করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কম্পিউটার অপারেটররা। যেগুলো সংশোধনের কাজ চলমান।

এদিকে বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মুক্তার হোসেন বেনুও জানান একই কথা। পুনরায় শুদ্ধভাবে তালিকা তৈরিতে তিনি তার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের কম্পিউটার অপারেটররা  জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ অসম্পন্ন খসড়া তালিকা দিয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা তা সম্পন্ন করি। ভুলবশত একেকটি নাম্বার অনেকবার ব্যবহৃত হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজংয়ের সঙ্গে। মোবাইলে বার বার কল দিলেও তা রিসিভ করেননি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা কর্মকার।

তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ  বলেন, খসড়া তালিকা জমা দেয়ার পর আমরা তাতে অনেক অনিয়ম খুঁজে পেয়েছি। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নেই সমস্যা হয়েছে। একেকটি মোবাইল নম্বর রয়েছে অনেকবার।

এসময় তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকগণকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে হালনাগাদ তালিকা জমা দিবেন।আশা করি এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলাসহ ৯টি উপজেলায়ও তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন মন্তব্য করেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতে ব্যাপক সংকটে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী টাকা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ধরনের অনিয়মের কারণে বঞ্চিত হবেন অনেক অসহায় দরিদ্র মানুষ।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, তালিকা এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে। একই মোবাইল নম্বরে একাধিক ব্যক্তির নাম থাকলে কেউই অর্থ সহায়তা পাবেন না। সয়ংক্রিয়ভাবে সহায়তা হস্তান্তর বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরোও বলেন, তালিকা চূড়ান্ত করে পাঠানোর পরও কোনও ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে যদি কোন ত্রুটি পাওয়া যায় তা পুনরায় যাচাই হবে। ইতোমধ্যেই হবিগঞ্জ থেকে একশ’ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৯ জন মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা প্রধান করা হয়েছে। এই তালিকায় তাদেরই রাখা হয়ে যারা ইতোপূর্বে সরকারের অন্যান্য কোনও কর্মসূচির আওতায় ছিলেন না। সুত্র: আরটিভি

আপনার মতামত দিন