ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ১৫ ঘণ্টার তাণ্ডব ২৬ জেলায় ক্ষয়ক্ষতি

0
102
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ১৫ ঘণ্টার তাণ্ডব ২৬ জেলায় ক্ষয়ক্ষতি
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ১৫ ঘণ্টার তাণ্ডব ২৬ জেলায় ক্ষয়ক্ষতি

বিশ্ববার্তা ডেস্ক: অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান বুধবার রাতে বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর এটি ১৫ ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

বাংলাদেশে এটির সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয় ১৫১ কিলোমিটার সাতক্ষীরায়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় ১০-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।

আরোও পড়ুন: কমলগঞ্জে এক সাংবাদিকসহ আরো ৬ জন নতুন করোনা আক্রান্ত

অন্তত ৪০ জেলায় এর কমবেশি প্রভাব পড়ে। তবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২৬ জেলায়। এসব জেলার মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও পটুয়াখালীর জনপদে।

প্রাথমিকভাবে সরকারি হিসাবে এক হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফসল নষ্ট হয়েছে ২ লাখ হেক্টর জমির। বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭ জেলায় অন্তত ১২ জন মারা গেছে। যদিও সরকারিভাবে সর্বোচ্চ ১১ জন স্বীকার করা হয়েছে। আর আহত হয়েছেন অর্ধশত মানুষ। ঝড়ের সময় দেশের অন্তত ৬০ শতাংশ বা ১ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় ঝড় চলে যাওয়ার ৬-৭ ঘণ্টা পরও সংযোগ দেয়া যায়নি।

এদিকে বিকালে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানান, চারটি মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আম্পানে এক হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ২৬টি জেলায় আঘাত হেনেছে। চূড়ান্তভাবে কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেই বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে ডি-ফরমে তথ্য আসবে। প্রায় ৭ দিন সময় লাগবে। এরপর এটা জানাতে পারব।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী জানতে পেরেছি, প্রায় এক হাজার ১০০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৬টি জেলার মধ্যে এই রাস্তা রয়েছে

 পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ১৫০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৮৪টি জায়গায় বাঁধের ফাটল ধরেছে বা ভেঙেছে। সেগুলোর জন্য তাদের ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। আগামীকাল থেকে এই বাঁধগুলোর সংস্কার কাজ চলবে।’

সাত জেলায় কেড়ে নিল ১২ প্রাণ : দেশের উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুপার সাইক্লোন আম্পানে ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশত মানুষ।

নিহতদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে গাছচাপা পড়ে। একজন নৌকাডুবিতে, একজন ট্রলারডুবিতে এবং একজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া একজন দেয়ালচাপা পড়ে, একজন স্ট্রোক করে এবং একজন পা পিছলে পড়ে মারা গেছেন।

নিহতরা হলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সৈয়দ শাহ আলম (৫৪), পটুয়াখালীর গলাচিপার রাশেদ (৫), ভোলার চরফ্যাশনের মো. সিদ্দিক ৭২, ভোলার বোরহান উদ্দিনের রফিকুল ইসলাম (৩৫), পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার শাজাহান মোল্লা (৫৫) ও গুলেনুর বেগম (৭০), পিরোজপুরের ইন্দুরকানির শাহ আলম (৫০), যশোর চৌগাছার রাবেয়া (১৩) ও ক্ষ্যান্তা বেগম (৪৫), ঝিনাইদহ সদরের নাদিরা বেগম (৫৫), চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সালাহউদ্দিন (১৬)।

আপনার মতামত দিন