লঞ্চ টার্মিনালে দুই শিশু কন্যার লাশ | আসামি বাবা

0
166
bissobarta.com
লঞ্চ টার্মিনালে দুই শিশু কন্যার লাশ আসামি বাবা

বিশ্ববার্তা ডেস্ক : আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পারিবারিক চাহিদা পূরনে ব্যর্থ হওয়ায় জ্ঞানশূন্য হয়ে দুই সন্তানকে হত্যা করলেন বাবা।

গতকাল শুক্রবার (২৪ মে) রাতে নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।নিহত দুই শিশুর কন্যার নাম তাইন (১১) ও তাইবা (৪)।

দুই মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে নিজ গ্রাম থেকে শিবপুর নিয়ে আসেন পিতা শফিকুল ইসলাম। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাদের নিয়ে লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরতে যান তিনি।সেখানে ছোট মেয়ে লিচু খেতে চাইলে হাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা কিনে দিতে পারেননি অসহায় ওই বাবা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঠিক মতো মেয়েদের ভরণ-পোষণই করতে পারেন না ওই বাবা।তার ওপর সামনে আবার ঈদ। সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দেওয়ার মতো কোনো টাকাও তার কাছে নেই। এসব ভেবেই হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন তিনি।

তারপর ওই টার্মিনালের একটি বাথরুমে একে একে দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফেলে আসেন বাবা।

প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চ টার্মিনালের শৌচালয়ে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।পরে বড় মেয়েকে একই কায়দায় হত্যা করেন বাবা।

শফিকুল ইসলামের বাড়ি মনোহরদী নামক একটি গ্রামে।তিনি পেশায় একজন পেশায় পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী।

আজ শনিবার (২৫ মে) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ,পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ (বিপিএম)।

আরোও পড়ুন: ট্রাকের চাপায় স্কুল ছাত্র মৃত্যুতে এলাকাবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন – শ্রীমঙ্গল

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ (বিপিএম) জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালের শৌচালয় থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ এবং হত্যাকারী বাবাকেও আটক করা হয়েছে।

আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে নিহতদের পিতা শফিকুল ইসলাম। তবে সে একেক বার একক রকম কথা বলছে।

পুলিশ সুপার আরও জানিয়েছেন, ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে মনোহরদী গ্রামের বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে শিবপুর নিয়ে আসেন পিতা শফিকুল ইসলাম।চিকিৎসক না থাকায় সে তার সন্তানদের নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরতে নিয়ে আসেন। ওই সময় তার ছোট মেয়ে তার কাছে লিচু খেতে চান। কিন্তু তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা ছিলনা। তার উপর সামনে ঈদ। সংসারের খরচ ও সন্তানের জামা কাপড় দিতে হবে। এসব ভেবে শফিকুল হিতাহিত শূন্য হয়ে যায়।পরবর্তীতে দুই মেয়েকে হত্যা করে।

হত্যার এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।তবে পুলিশ জানায় পরিবার মামলা না করলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

আপনার মতামত দিন