বিশ্ববার্তা ডেস্ক: পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মরত-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন, থাকার জন্য আবাপত্র যেমন বিছানা, বালিশ, খাট,চেয়্যার-টেবিল,ফ্রিজ-এসি, ইতাদি সহ অনান্য আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে তোলায় নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
রোববার(১৯মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন দেশের জনস্বার্থে এ রিটটি করেন।
আজ সোমবার (২০মে) হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সরওয়ারদীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি হতে পারে বলে ব্যারিস্টার সুমন জানান।
এই রিটে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব, পাবনার গণপূর্ত অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে বলেও জানান ব্যারিস্টার সুমন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনায় খবর প্রকাশ হওয়ার পর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। যেহেতু তাদের কর্মচারীররা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাতে সেই কমিটি দিয়ে তদন্ত না করে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করার দাবিতে রিট করেছি।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা কর্মচারির বেতন ও গ্রিণ সিটি আবাসন পল্লীর ভবনের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ও তা ভবনে তোলায় অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে গত ১৬ মে দৈনিক ‘দেশ রূপান্তর’সহ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
সুমন বলেন, ‘ওই প্রকল্পের জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও থাকার জন্য ফার্নিচার থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিস অস্বাভাবিক দামে কেনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তা ভবনে তোলায়ও অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে।
রিট আবেদনে এ সকল বিষয় উল্লেখ করে বলেছি, এটি তদন্ত করার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হোক যাতে বোঝা যাবে আসলে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং কারা দায়ী।
তিনি বলেন, ‘গণপূর্ত অধিদফতর এ ঘটনা তদন্ত করবে বলে জেনেছি। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারাই যদি তদন্ত করে তাহলে তদন্ত কার্যক্রম বিশ্বাসযোগ্য হবে না। এ জন্যই বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা ৮টি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে বালিশ ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা।
প্রতিটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।
একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর খাট উপরে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।
প্রতিটি টেলিভিশন কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা। আর টেলিভিশন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৩৮ টাকা।
বিছানার খরচ ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দেখানো হয়েছে। তা ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা।
প্রতিটি ওয়ারড্রোব কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা। আর তা ওঠাতে দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকার খরচ।
এ রকম বৈদ্যুতিক চুলা, বৈদুতিক কেটলি, রুম পরিস্কারের মেশিন, ইলেকট্রিক আয়রন, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি কেনাকাটা ও ভবনে তুলতে অস্বাবাভিক খরচ দেখানো হয়েছে।
উপরোক্ত সকল বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে অনিয়ম হলে সংসিলষঠ ব্যক্তিদের আইনের আয়তায় এনে শাসি করতে হবে।












