নকল করতে বাধা দেওয়ায় : ছাত্রলীগ হতে শিক্ষককে লাঞ্ছিত

0
255
bissobarta.com
ছাত্রলীগ হতে শিক্ষককে লাঞ্ছিত

নকল করতে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগ হতে শিক্ষককে লাঞ্ছিত হলেন পাবনায়।

ডেস্ক রিপোর্ট: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীকে নকল করতে বাধা দেওয়ায়, ছাত্রলীগ কর্তৃক ওই কলেজ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অপরাধে পাবনার দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ মে ২০১৯ইং) দিবাগত রাতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃৃত অপরাধীরা হলেন:

ঈশ্বরদী উপজেলার গোকুল নগর গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে সজল ইসলাম ও সদর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের ইউসুফ শেখের ছেলে শাফিন শেখ

পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান,

শিক্ষক লাঞ্ছনার এই ঘটনায় বুধবার রাতে সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল কুদ্দুস, ঘটনায় জড়িত সজল ও শাফিনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে সজল ও শাফিনকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

রোববার ১২ মের এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় তা প্রচার হলে, সন্ধায় জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কলেজ শাখা কমিটি স্থগিত এবং তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে গণমাধ্যমে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠায়।

হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে উল্টো ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা হয় ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ। হামলার ভিডিও ফুটেজে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সামসুদ্দিন জুন্নুনকে দেখা গেলেও অজ্ঞাত কারণে মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি।

উল্লেখ্য: সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১২ মে রোববার দুপুর ২টায় উচ্চমাধ্যমিকের ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান।কলেজের মূল ফটকে আসলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিত ভাবে হামলা করে মাসুদুরকে পেটাতে শুরু করে ছাত্রলীগ নেতারা।

ঘটনাটির দুইদিন পরে সিসি টিভির ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশ থেকে নিন্দার ঝড় উঠে।সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা ও সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যেম বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়।

শিক্ষক সমাজ এর নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষদের প্রতি ছাত্রদের এমন ব্যবহার সত্যিই খুব লজ্জা এবং কলঙ্কের যা কখনো কাম্য নয়।

পরিশেষে, পুলিশ এই অমাবিক, অপরাধকারীদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় ফলে সামাজিক মিডিয়ায় সমালোচনার তাপ কিছুটা কমে আসে।

আপনার মতামত দিন