বনবিট কর্মকর্তার নির্দেশে ভিলেজারের গাছ কেটে ভিলেজাকে মারধরের অভিযোগ

0
9
বনবিট কর্মকর্তার নির্দেশে ভিলেজারের গাছ কেটে ভিলেজাকে মারধরের অভিযোগ

নিজ্স্ব প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বনবিট এলাকায় বনবিট কর্মকর্তার নির্দেশে ভিলেজারের গাছ কেটে ভিলেজাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাপ দাদার আমল থেকে বসবাস করে আসছেন মহেব উল্লাসহ আরোও কয়েজন ভিলেজার বনবিভাগের বিধি অনুযায়ী নিজ নিজ বাড়িতে শাক সবজি ও ফল ফসল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন আসছোন।

সম্প্রতি মহেব উল্লা ও তার ছেলের লাগানো শখের কমলা বাগান ও আনারস বাগানের কমলা ও আনারস গাছ কেটে মহেব উল্লা(৭৫) ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন স্থানীয় বনপ্রহরীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরজমিন ঘটনাস্থল কালেন্জী গ্রামে গিয়ে মহেব উল্লার ছেলে আলী হোসেন ও প্রতিবেশী ভিলেজারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহেব উল্লা তাদের বাড়িতে ফল ফসল চাষাবাদের জন্য বিট কর্মকর্তাকে টাকা দিতে হয়। আনারস ও কমলা গাছ লাগানোর সময় তিনি মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন এক দাপে ১৫ হাজার টাকা আরেক দাপে ৫০ হাজার টাকা। বুধবার (২২ এপ্রিল) আরও টাকা দাবি করলে ভিলেজার মহেব উল্লার ছেলে আলী হোসেন অপারগতা প্রকাশ করলে দুপুরে বিট কর্মকর্তার নির্দেশে বন প্রহরী শাহ আলম ও শাহীন আহমেদ জোর করে বেশ কয়েকটি কমলা গাছ ও আনারস গাছ কেটে ফেলেন।

এ সময় তাদের সখের বাগান রক্ষা করতে বাধা দিতে গেলে মহেব উল্লা ও তার স্ত্রী আলেকজান বিবিকে মারধর করেন তারা। এ ঘটনায় আহত হন আলী হোসেনের স্ত্রী সালমা বেগম (৩০) ও তার মা বাবা। তবে আহত অবস্থায় তার মা আলেকজান বিবি (৬০) ও বাবা মহেব উল্লা কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরোও ভিলেজাররা জানান,বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার আদমপুর বিটে যোগদান করার পর থেকে ভিলেজার ও এলাকাবাসীকে নানা ভাবে হয়রানি করছেন। এতে কোন ভিলেজার কিংবা এলাকাবাসি প্রতিবাদ কারলে তাদের নামে মিত্যা মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় আদমপুর বিট অফিসের বনপ্রহরী শাহীনুর আলমের উপর হামলা করেছে মহেব উল্লার ছেলে আলী হোসেন ও তার সহযোগীরা। হামলায় আহত হয়ে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। আলী হোসেন গংদের অভিযোগটি সম্পূর্ণ সাজানো ও বানেয়াট। বনপ্রহরী বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এসয় তিনি আরো বলেন, বনবিভাগের পক্ষ থেকেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত দিন