স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে ডাক্তারা রোগিদের চিকিৎসার নামে চলছে টেস্ট বানিজ্য। প্রয়োজন হোক বা না হোক কমিশনের লোভে রোগীদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন টেস্ট প্রেসক্রিপশন।
স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি নীতিমালা সঠিক ভাবে প্রয়োগ না হওয়ার কারণে নগরীতে নিয়ম নীতি না মেনে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে।
এমন দুর্নীতি শুধু সিলেট বিভাগে নয় এমন চিত্র সারা বাংলাদেশে।যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ দুর্নীতির স্বীকার হচ্ছেন।
যত্রতত্র চেম্বার খোলে ডাক্তাররা গভীর রাত পর্যন্ত রোগী দেখছেন। প্রয়োজন হোক বা না হোক, রোগীর টেস্টের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশনের লোভে অনেক ডাক্তার নানা পরীক্ষা লিখে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন প্রেসক্রিপশন।
কোন কোন ডাক্তার নিজের মনোনীত জায়গায় পরীক্ষা না করালে পরবর্তীতে সে রোগীকে আর দেখেন না। অনেক চেম্বারে আবার রোগীর চাইতে বেশি দেখা মিলে ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের। মানহীন কোম্পানির ঔষধ ডাক্তার রোগীর প্রেসক্রিপশনে লিখতে দেশি-বিদেশী নানা প্রকার সামগ্রী উপহার দেন তারা।
প্রেসক্রিপশনের বই, ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে দেয়া, মাস শেষে লম্বা খামে কমিশন প্রদান করা, কোন ঔষধ কোম্পানি বছর শেষে ডাক্তারকে বিদেশ ভ্রমনে নিয়ে যায়। আর সে সব প্রলুব্ধতায় মুগ্ধ হয়ে ডাক্তার নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন ভেজাল ঔষধ। রোগী ডাক্তার দেখিয়ে চেম্বার থেকে বের হলেই কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রেসক্রিপশন নিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে রাখছেন হিসেব। আবার কখনো ডাক্তার অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন লেখায় বেশির ভাগ সময় ঔষধ নির্ণয় করা কঠিন হয়। অনেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সিরিয়াল নিতেও ঘুষ দিতে হয়। আবার কারো কারো কাছে অগ্রিম ফি দিতে হয়।
জানা যায়, সিলেট নগরীতে রয়েছে শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনুমোদিতহীন চমকপদক নামে আধুনিক সাজসজ্জায় গড়ে উঠেছে অধিকাংশ চিকিৎসাসেবার প্রতিষ্ঠান। এদের বেশিরভাগেরই উদ্দেশ্য থাকে রোগীর কাছ থেকে কিভাবে চিকিৎসা ও টেস্টের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া যায়।
এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিটিস্ক্যান ৪ হাজার টাকা, এমআরআই ৪/৫ হাজার টাকা, প্রায় ২ শত ধরনের রক্ত পরীক্ষা ২শ’ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি পরীক্ষা ৪/৮ হাজার টাকা, এফএনএসি (ফাইন নিডল এসপাইরেশন সাইটোলজি) ১ হাজার টাকা, হিস্টো ৬শ’/ ১ হাজার টাকা। সিটি স্ক্যান, ইকো, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ জটিল পরীক্ষাগুলো ডাক্তারের উপস্থিতিতে করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। আর যে ওষুধ দিয়ে টেস্ট করানো হয় সেগুলোও অনেক সময় থাকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও জীবাণুতে ভরপুর।
সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো- পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট তৈরি করার কথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের। কিন্তু তা করছেন টেকনিশিয়ান কিংবা ডাক্তারের সহযোগীতাকারী। ডাক্তারের নাম, পদবি সম্ভলিত সিল মেরে তারা নিজেরাই স্বাক্ষর করে রোগীকে সরবরাহ করছেন রিপোর্ট। সে রিপোর্ট ভালো করে না দেখে প্রতিষ্ঠানের নাম দেখে ডাক্তার লিখে দিচ্ছেন ঔষধ।
আরোও পড়ুন: রাজনগরে ভোক্তা অধিকার অভিযানে ৪ টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
গর্ভবতী কোন রোগীর বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়া মানে ছুরির নিচে গলা দেয়া। মা ও সন্তানকে বাঁচাতে হলে এখনি ইমার্জেন্সি অপারেশন প্রয়োজন, দেরি হলে মা বা সন্তান বাঁচানো সম্ভব হবে না, যা করার তাড়াতাড়ি করেন বলে ভয় দেখিয়ে অপারেশ করাতে বাধ্য করার নিয়ম চালু হয়েছে। তার পর কৌশলে পাঁচ থেকে সাতদিন রেখে লম্বা বিল ধরিয়ে দেয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কোথাও আবার ডেলিভারীর জন্য প্যাকেজ সিস্টেম চালু রয়েছে। এসব কারণে দেশের স্বাস্থ্যসেবা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে।
এসব প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থে নির্মাণ করা হলেও বাস্তবে ভিন্ন কৌশলে জনগনকে জিম্মি করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।তাই সরকারকে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ন্তণ করে জনমনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবেদন জানান সাধারণ মানুষ।









