রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম প্রত্যাহার

0
42
bissobarta.com
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
বিশ্ববার্তা প্রতিনিধি: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পের আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয়ের অভিযোগে প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।

গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, “প্রকল্পের আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় মাসুদুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।”

নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম এসব অনিয়মে জড়িত আছেন কিনা তার প্রমাণ জানতে চাইলে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে।”

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে উত্তলনে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয়ের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দেখে গত রোববার (১৯মে) মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি করে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের জন্য আসবাবপত্র কেনা ও আসবাবপত্র আবাসনে উত্তোলনে দুর্নীতি হয়েছে।

সেখানে ২০ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে বালিশ ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা।

প্রতিটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।

একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর খাট উপরে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।

প্রতিটি টেলিভিশন কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা। আর টেলিভিশন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৩৮ টাকা।

বিছানার খরচ ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দেখানো হয়েছে। তা ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা।

প্রতিটি ওয়ারড্রোব কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা। আর তা ওঠাতে দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকার খরচ।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, “গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মাণাধীন ছয়টি ভবনে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়নপূর্বক ছয়টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহবান করা হয়।

“প্যাকেজসমূহের প্রতিটির ক্রয়মূল্য ৩০ কোটি টাকার নিম্নে প্রাক্কলন করায় গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়ন, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”

সে সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয় যে,তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের পাওনা পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

আপনার মতামত দিন