কমলগঞ্জ সদর ও মাধবপুর ইউনিয়ন থেকে গত জানুয়ারি মাস থেকে চলতি মাস পর্যন্ত প্রায় ৮০ টিরও বেশি গরু চুরি হয়। কে বা কারা এই চুরির সাথে জড়িত তার সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ১,২ জন চোর ধরা পড়লেও চুরি যেন কোনোক্রমেই বন্ধ হচ্ছে না।
অধিকাংশ চুরি হয়ে যাওয়া গরুর মালিক জানান সারাদিনই গরুকে মাঠে ঘাটে ঘুরতে দেখা যায় কিন্তু হঠাৎ করে সন্ধ্যার পর থেকে গরু উদাও হয়ে যায় কে বা কারা কিভাবে এ কাজটি করে তা কেউই টের পান না। অধিকাংশ গরুই সন্ধ্যার পর চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুরি হওয়া গরুর মালিকরা।
বিশেষ করে বাগান এলাকার গরু গুলা সারাদিন মাঠে ছাড়া অবস্থায় থাকে এবং সন্ধ্যার পর নিজ থেকেই গরু তার মালিকের ঘরে ফিরে আসে। ইদানিং সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই গরু গুলা আর বাড়ি ফিরে আসে না তারপর খুঁজাখুঁজি করে আর পাওয়া যাচ্ছে না। এ যেন এক অজানা রহস্য যা কেহ খুঁজে পাচ্ছে না।
অবশেষে এ রহস্যের উদঘাটন ঘটে বৃহস্পতিবার ওই দিন সন্ধ্যায় মাধবপুর চা বাগানের বাংলো টিলা থেকে দুইটি ও নুরজাহান চা বাগান থেকে দুটি গরু চুরি হয়, পরে নুরজাহান ও ডলুবাড়ি এলাকার লোকজন সন্দেহজনকভাবে একটি প্রাইভেটকার কে আটক করে, ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেট কার চালক পালিয়ে গেলে ভেতরে তিনজনকে পাওয়া যায়। স্থানীয়রা ওই তিন জনকে মারধর করে, শেষে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ থানার পুলিশ বিষয়টি জানাতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরবর্তীতে কমলগঞ্জ থানায় তিনজন চুর, প্রাইভেট কার ও গরুসহ হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত তিনজন যুবক হলেন মোতাব্বির হোসেন, আব্দুল আহাদ, জাকির হোসেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তাদের বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেট কার এবং দুটি চুরিকৃত গরু উদ্ধার করা হয়।
এলাকার স্থানীয় জনসাধারণ জানান বেশ কয়েকদিন ধরেই এলাকায় কিছু প্রাইভেট গাড়ি আসা যাওয়া করে। দিনে তারা চতুর্দিকে ঘুরাঘুরি করে দেখে রাখে এবং সন্ধ্যার পর সুযোগ বুঝে ছোট আকৃতির গরু গুলোকে গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। প্রাইভেট কারে করে গরু চুরি হতে পারে সেটা কিভাবে বিশ্বাস করা যায়। সেই জন্য চুরচক্র এই পদ্ধতিতেই বেশ কয়েকদিন যাবৎ চুরি করে যাচ্ছিল।
কমলগঞ্জ সদর ইউপি সদস্য কবিতা কর্মকার জানান গত কয়েক মাস থেকে তার নিজ এলাকা থেকে ১৭টি গরু চুরি হয়েছে এর মধ্যে তার নিজের একটি গরু রয়েছে। কিছুতেইযেন চোর চক্র কে ধরা যাচ্ছিলোনা। তিনি এই তিনজন গরু চোরকে ধরার খবর পেয়ে আশা ব্যক্ত করেন যে, হয়তো এখন চুরি হওয়া কমে যাবে। তিনি আরো বলেন এভাবে প্রাইভেট কারে করে গরু চুরি করে নিয়ে যাবে তা কখনোই ভাবার নয়।
কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস এই ঘটনার সত্যতা জানিয়ে বলেন তাঁরা ৩ জন চোর ও মালামাল জব্দ করেছেন। তিনি আরও বলেন এঘটনার তদন্ত করে এর সাথে আরোও কারা জড়িত আছে বের করে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কেহ যেন এ কাজ করার সাহস না পায়।আশাকরি এখন থেকে কমলগঞ্জে গরুচুরি হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।









