স্পেনে কমবয়সী শিশু-কিশোরদের রাস্তায় ভিড়

0
166
স্পেনে কমবয়সী শিশু-কিশোরদের রাস্তায় ভিড়
স্পেনে কমবয়সী শিশু-কিশোরদের রাস্তায় ভিড়

বিশ্ববার্তা ডেস্ক : টানা ছয় সাপ্তাহ ধরে লকডাউনে পর ২৬’শে এপ্রিল রবিবার কঠোর নিয়মশৃঙ্খলা অব্যাহত রেখে স্পেন সরকার ঘোষণা দেয়,  কমবয়সী শিশু-কিশোরদের স্বার্থে দেশটিতে লকডাউনে কিছুটা শিথিলতা থাকবে। এতে করে খানেকটা স্বস্তি আসে গৃহবন্দী থাকা স্পেনীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে।

আরোও পড়ুন: চীনের দেয়া ১০ লাখ মাস্ক ফেরত দিল কানাডা

রবিবার সকাল থেকেই মানুষের পদচারণায় ব্যস্ত হতে শুরু করে দেশের প্রতিটা বসতিপূর্ণ অঞ্চলের রাস্তাঘাট আর ছোটবড় সব উদ্যান গুলো। এদৃশ্য দেখে মনে হয়েছিল এ যেন একটি বিশেষ দিন যা স্পেনীসরা আনন্দের সাথে পালন করছে।

স্পেনের ১৪ বছরের কম বয়সের শিশুরা একটানা ৪৩ দিন ঘরে বন্ধী থাকার পর, আজ মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিলো। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, স্পেনের অনূর্ধ্ব ১৪ বছর বয়সী প্রায় ৬৩ লাখ শিশু এখন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে পারবে।

একেত্রে তাদের গন্তব্য হবে বাড়ির এক কিলোমিটারের গন্ডির মধ্যে, সঙ্গে থাকবে বাবা-মা কিংবা পরিবারের কোনো জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। আর একদলে তিন জনের বেশি হবে না।
করোনা মহামারির এই অচেনা সময়ে, এক মাসেরও অধিক কাল গৃহবন্ধী হয়ে থাকার এ ঘটনা, শিশুদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

করোনা মহামারির কারণে তৈরি হওয়া সামাজিক দূরত্বের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে স্পেনের বার রেস্টুরেন্টের ব্যবসা।ধারণা করা হচ্ছে, মহামারি পরবর্তী পরস্থিতিতে এ ধরণের ব্যবসার ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। যা শতকরা হিসেবে ১৫%। স্পেনে মোট ২ লক্ষ ১৯ হাজার বার রেস্টুরেন্ট আছে।

সবকিছু ছাড়িয়ে রবিবার স্পেনের রাস্তাঘাট, পার্ক এবং উদ্যান গুলিতে মানুষের ভিড় যেনো দেশটিতে বছরের প্রথম বসন্তের ছবি ফুটিয়ে তোলেছিল। প্রকৃতি তার পরিচিত মুখগুলোকে ফিরে পেয়ে নিজেই যেন প্রফুল্লচিত্তে হেসে উঠেছিল।

গতকাল ২৬ এপ্রিল (২৪ঘন্টা) স্পেনে মোট মৃতের সংখ্যা রেজিস্ট্রি করা হয়েছে ২৮৮জন। ২৫ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ছিলো ৩৭৮ জন, ২৪ এপ্রিল যেটি ছিলো ৩৬৭জন।

গতকাল ২৬ এপ্রিল নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১,৭২৯জন। নতুন আক্রান্তের তুলনায় সুস্থের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি । মোট সুস্থ হয়েছেন ২৬ এপ্রিল ৩,০২৪ জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্পেনে মোট মৃতের সংখ্যা ২৩ হাজার ১৯০ জন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৬২৯জন।আর সুস্থ হয়েছেন প্রায় ১ লক্ষের কাছাকাছি, মোট ৯৮হাজার ৭৩২জন।

আপনার মতামত দিন