শ্রীসঙ্গলে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন হাসপাতালে

0
157
শ্রীসঙ্গলে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন হাসপাতালে
শ্রীসঙ্গলে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার: শ্রীসঙ্গলে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন হাসপাতালে। শিল্প কারখনার বর্জ্যের দূষন থেকে পরিবেশ রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন পালনকারীদের উপর হামলা করা হয় এতে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এসময় সংঘর্ষে  গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও মৌলভীবাজার হাসপাতালে ৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

উল্লেখ্য গত সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউপির রাজপাড়া গ্রাম এলাকায় নির্মানাধীন রশনি পলি ফাইবার ইন্ড্রাস্ট্রির সামনে তাদের কার্যকলাপে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেন গ্রামবাসীর একপক্ষ। 

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, শনিবার (৩০জুন) সন্ধ্যায় ওই মানববন্ধনে নেতৃত্বদানকারী কদর মিয়ার উপর একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং তাকে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনার পরপরই কদর মিয়ার পক্ষের লোকজন ঐ হামলাকারীদের উপর পালটা  হামলা করে। শ্রীসঙ্গলে দুপক্ষের লোকজনের সংঘর্ষে গ্রামে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আরোও পড়ুন: অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ১৮ বছরের বলিউড নায়িকা জায়রা ওয়াসিম

রাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এই ঘটনার সুত্র ধরে রোববার সকালে শ্রীমঙ্গল – ভূনবীর-শমশেরগঞ্জ রাস্তা বন্ধ করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিবাদমান দুটি পক্ষের লোকজন ফের অবস্থান নেয়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। 

এসময় রশনি পলি ফাইবার ইন্ড্রাস্ট্রির প্রজেক্ট ম্যানেজার তোফাজ্জল ইসলাম বলেন দু’পক্ষের মারামারির বিষয়ে নির্মানাধীন রশনি পলি ফাইবার ইন্ড্রাস্ট্রির কোন সম্পর্ক নেই।  তিনি বলেন, আমরা শিল্প স্থাপনের নিয়ম-কানুন মেনেই সবকিছু করছি।

এ সংঘর্ষে  গুরুতর আহত কদর মিয়া  বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আছকির মিয়া তার দলবল নিয়ে আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। গত কয়েকদিন আগে রশনি পলি ফাইবার কোম্পানীর বর্জ্য পদার্থ ও পানির পাইপের সংযোগ ছড়ার (পাহাড়ি জলধার) পানিতে ফেলে গ্রামের পরিবেশ দূষণরোধে না ফেলার জন্য ইউএনওর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। আর এ কারনেই স্বার্থান্বেষী মহলটি বিক্ষুব্ধ হয়ে আমার উপর এই হামলার ঘটনা ঘটায়।

তবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আছকির মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দিয়ে বলেন, গ্রামের সবাই আমার নিজের লোক। আমি সবার বিপদে আপদে ছুটে যাই।

তিনি আরোও বলেন, আমার দলেরই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আমাকে এই ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করেছে। মুলত আমি এই ঘটনার কথা লোকমুখে জেনে শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে যাই, তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। 

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, রশনি পলি ফাইবার ইন্ড্রাস্ট্রির বর্জ্য ও পানি নিস্কাশনের বিষয় নিয়ে গ্রামের কিছু মানুষ পক্ষে-বিপক্ষে গিয়ে নিজেদের মাঝে ঝামেলা করেছে বলে পুলিশকে গ্রামবাসী জানিয়েছে।  

তিনি আরোও বলেন, আমরা রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা বন্ধ পাইনি। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকাদের আমরা সরিয়ে দিয়েছি।শ্রীসঙ্গলে দুপক্ষের সংঘর্ষে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছি।

আপনার মতামত দিন