অবশেষে মিয়ানমারের আশিন উইরাথুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

0
167
আশিন উইরাথুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
আশিন উইরাথুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

বিশ্ববার্তা ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু রোহিঙ্গা হত্যাকান্ডের মূল নায়ক মিয়ানমারের আশিন উইরাথুর বিরুদ্ধে অবশেষে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে দেশটির সরকার।

তবে, মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের গণহত্যায় উসকানি দেয়ার অভিযোগে নয়, মিয়ানমারের ডিফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। খবর ইরাবতী ও বিবিসির।

কুখ্যাত ওই বৌদ্ধ ভিক্ষু প্রজেক্টারের মাধ্যমে ২০০১ সাল থেকেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে।সে মসজিদকে ‘শত্রুর ঘাঁটি’ হিসেবে বর্ণনা করে।

আশিন উইরাথুর কাছে মুসলিমরা হচ্ছে ‘পাগলা কুকুর, মুসলিমদের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ- তারা চুরি করে, মিয়ানমারের মহিলাদের ধর্ষণ করে এবং গণহারে জন্ম দিয়ে তারা খুব দ্রুত নিজেদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশ মুসলমান।

আশিন উইরাথু ২০০১ সালে যখন তিনি মুসলিমদের মালিকানাধীন ব্যবসা ও দোকানপাট বয়কট করার জন্যে প্রচারণা শুরু করেন তখন তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন ।

এরকম একটি প্রচারণা শুরু করার পর ২০০৩ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিচারে তার ২৫ বছরের সাজা হয়েছিল।কিন্তু সাত বছর পর সরকারের ঘোষিত সাধারণ ক্ষমায় তিনি ২০১০ সালে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।

কিন্তু উইরাথুর জেল থেকে বাহির হয়ে আবার মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে তিনি তার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অব্যাহত রাখেন।

তার কথার প্রতিটি বাক্যে ছড়িয়ে থাকে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা। মিয়ানমারের বিদ্যমান মুসলিমবিদ্বেষে তার এসব বক্তব্য আরো উস্কানি জোগাতে সাহায্য করে।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে এক পর্যায়ে আশিন উইরাথু সোশাল মিডিয়াও ব্যবহার করতে শুরু করেন।

এরই এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাকে নিষিদ্ধ করে। উইরাথু তখন বিকল্প হিসেবে অন্য সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের কথা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ফেসবুক যখন আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়, আমি তখন ইউটিউবের উপর নির্ভর করি। আবার ইউটিউব যেহেতু খুব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে না, সেহেতু আমার জাতীয়তাবাদী কাজ অব্যাহত রাখার জন্যে আমি টুইটার ব্যবহার করবো।

যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনেও উইরাথুকে চিত্রিত করা হয় একজন সন্ত্রাসী হিসেবে।

২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু হওয়ার জন্যে আশ্বিন উইরাথুর সমর্থকদের ব্যাপকভাবে দায়ী করা হয়। এর পরই সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়।

আপনার মতামত দিন