স্টাপ রিপোর্ট : শ্রীলংকার আভিজাত্য কয়েকটি স্থানে একযোগে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি দল ইসলামিক টেস্ট-আইএস।
গত রোববার (২২-৪-২০১৯) ষ্টার সানডে প্রার্থনা করার সময় কয়েকটি চার্জ ও কয়েকটি হোটেলে একসাথে আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়, এই আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রায় ৩২০ জন নিহত হন এবং ৫০০ এর বেশি লোক আহত হয়।
কে, বা কারা, কেন এই বোমা হামলা করেছে তার সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। তাৎক্ষণিকভাবে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সারাদেশে কারফিউ জারি করা হয়।
অবশেষে আই এস, এর বার্তা সংস্থা ’আমাক, এ মঙ্গলবার হামলার দায় স্বীকার করে আরবিতে লেখা একটি বার্তা প্রকাশ করে। তবে এই বার্তার সত্যতার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।
অন্যদিকে শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাবণ বিজয় বর্ধন, এদিন পার্লামেন্টে এক বিবৃতিতে বলেন প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এটা (শ্রীলংকা) হামলা করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যার সঙ্গে শ্রীলংকার ঘটনার যোগসুত্র কিভাবে খুঁজে পেলেন, তার- বিশদ ব্যাখ্যা করেননি বিজয় বর্ধন।
তবে ধারণা করা হয় ইসলামি জঙ্গি সংগঠন এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার দুটি উগ্রপন্থী ইসলামি সংগঠন, নেশনাল তাওহীদ জামাত এবং জামিয়াতুল মিল্লাতু ইব্রাহিম, (জেএমআইযে) ইস্টার সানডের সকালে গির্জা ও হোটেলে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা!
শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রম সিংহ পার্লামেন্টে বলেন, ‘হামলার সঙ্গে বিদেশি যোগসাজশের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মীরা!!’
হামলার পর থেকে গত দুই দিনে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হিসেবে ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে শ্রীলঙ্কা নিরাপত্তাকর্মী এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একজন সিরীয় নাগরিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সেনা সূত্রে, বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
