ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্টের জের ধরে শ্রীলংকার মসজিদে হামলা : দোকানপাট ভাংচুর

0
bissobarta.com
শ্রীলংকার মসজিদে হামলা দোকানপাট ভাংচুর

ডেস্ক রিপোর্ট: শ্রীলঙ্কায় সংঘটিত জঙ্গি হামলা কে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দেয়ায় শ্রীলংকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মসজিদ ও দোকানপাটে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে সেখানকার স্থানীয়রা। সেইসঙ্গে মসজিদের দরজা জানালা ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং পবিত্র কুরআন শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে হামলাকারীরা।

গত রবিবার (১২মে) শ্রীলঙ্কার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কিনিয়ামা শহরের আব্রার মসজিদে তাণ্ডব চালায় আক্রমণকারীরা।মসজিদে উপস্থিত থাকা একজন মুসলিম বলেন, প্রথমে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক লাঠিশোটা ও ভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আসে কিন্তু পুলিশের বাধা যারা প্রথমে ফিরে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার তারা প্রায় ১৩০০ জনের মত লোক একত্রে সংগঠিত করে মসজিদে তান্ডব চালায়।

মসজিদের ঐ মুসল্লি আরোও বলেন, মসজিদের সব দরজা জানালার কাঁচ ভেঙ্গে দেয় এবং আগুন দেয় পবিত্র কুরআন শরীফে।

মসজিদে আক্রমণ ছাড়াও এ সময় উত্তর-পশ্চিমের পুত্তালাম জেলার এক ব্যবসায়ী দোকানে বিক্ষুব্ধ জনগণ আক্রমণ করলে চুরিকাঘাতে ১ জন ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এভাবে হেট্টিপোলা শহরে আরোও তিনটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শ্রীলংকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এসময় দেশটির পুলিশের মুখ্যপাত্র রাবন গুণাসেকার বলেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করাতে চিলাওয়া এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

ফেইজবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটে দেখাযায়, একজন লোক সিংহলিজ ভাষায় মুসলমানদের পরিহাস করে বলছে- ‘তাদের এখন কান্না করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে’।

তারি জবাবে অপর একজন বলছেন- ‘এত বেশি হেসো না, একদিন তোমাদেরও কাদঁতে হবে’।

স্থানীয়রা এই বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঐ ব্যাক্তিকে আটক করে নিয়ে যায়। এভাবেই একজন আরেক জনের সাথে তর্ক করে সংঘর্ষ বাদে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাময়িক সময়ের জন্য ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসআপ এপ বন্ধ করে দিয়েছে শ্রীলংকা সরকার।

গত ২১ এপ্রিল শ্রীলংকার চার্চে ও অভিজাত হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা এতে প্রায় ২৫০ এর বেশি লোক নিহত হয়অ আহত হয় ৫শতাধিক। এর পর থেকে দেশটিতে ব্যাপক অভিযান চালায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

এই হামলার ব্যাপারে বিভিন্ন তর্কবিতর্কের জের ধরে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বেড়েছে। সূত্র: বিসিবি, রয়টার্স

আপনার মতামত দিন
Exit mobile version