জায়েদ আহমদ, মৌলভীবাজার থেকেঃ করোনাভাইরাসের আতঙ্কজনক সংক্রমণে এ মহাদুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের দেশের সরকার যখন সর্বশক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে।এই সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে শ্রীমঙ্গলের খাসিয়া সম্প্রদায়।
আরো পড়ুন: উপসর্গ ছাড়াই মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের করোনা পজিটিভ
দেশের হতদরিদ্র হাজার হাজার মানুষ ক্ষুধার সাথে এখন প্রতিদিনই যুদ্ধ করছে। জীবিকা হারিয়ে গৃহবন্ধি জীবন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ শ্রমজীবি মানুষ।তখন শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ের খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষগুলোর মানবিকতা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন সমতলের মানুষরা।
শুধু পান বিক্রি করে যাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাঁরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নিরন্ন মানুষদের দিকে। সেই পাহাড়ি মানুষগুলো প্রতিদিনই শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনকে ত্রাণ বিতরণে খাদ্য সহায়তা নিয়ে পাশে দাড়াচ্ছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এক দিকে যেমন চায়ের রাজধানী তেমনি বিশাল ব্যবসা কেন্দ্রও বটে। সারা জেলার ব্যবসার সিংহভাগ যোগান দেন শ্রীমঙ্গলের কোটি কোটি টাকার মালিক ব্যবসায়ীরা। অর্থবিত্তের দিকদিয়ে তাঁরা বিত্তবান হলেও দেশের এ দূযোর্গ মুহূর্তে তারে কতজন এগিয়ে আসছেন মানবতার সেবায় সে প্রশ্ন থেকে যায়। বরং এখানে কবির সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় ‘ এ জগতে হায় সেই বেশি চায়, আছে যার ভুরি ভুরি’- শুধু শ্রীমঙ্গল কেন সারা জেলা অনেক ধনবান ব্যক্তি থাকলেও এসময় তাদের তেমন কোন ত্রাণ কার্যক্রম দেখা যায়নি।
জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের সাে সমন্বিত ত্রাণ কাজেও কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যুক্ত হওয়ার কোন খবরও পাওয়া যায়নি এ যাবত। অথচ পাহাড়ের খাসিয়া মানুষগুলো যাদের এখন সহায়তা করা রকার তারাই তারে সামর্থ অনুযায়ী প্রশাসনের পাশে দাড়িয়ে প্রতিনিয়ত সহায়তা করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম এর কাছে রোববার (৩মে) শ্রীমঙ্গল ডনছড়া খাসিয়া সম্প্রদায়ের পক্ষে পুঞ্জি প্রধান প্রদীপ কংওয়াং, বেলজিও পতাম, পিয়ারসন পতাম, পরমান কংওয়াং, জড়োয়া সিমসাং ৫ বস্তা চাল(২৫০ কেজি) আলু ৩ বস্তা(১৬৫ কেজি) তেল ৩ কার্টুক (৩৬ লিটার), লবণ ৫০ কেজি,প্রদান করেন।
হোসনাবাদ খাসিয়াদের পক্ষে ক্রীন পতাম, আলু ৫৫০ কেজি, জুলেখা নগর খাসিয়াদের পক্ষে পুঞ্জি প্রধান মিন সুমের,গনেশ গোয়ালা ও সাজু মারছিয়াং উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ২৬ এপ্রিল গহীন অরণ্যে কাইলিন নাহার পুঞ্জির পক্ষে পুঞ্জি প্রধান ফেরলি সুরং ৩ বস্তা ছোলা তুলে দেন।
২৫ এপ্রিল লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির পক্ষে ৬০০কেজি আলু এবং ৫০কেজি ডাল দিয়েছেন পুঞ্জি প্রধান ফিলা পথমি ও সাজু মারছিয়াং।
২২ এপ্রিল লংলিয়া খাসিয়া পুঞ্জি ও ৬নং হোসনাবাদ খাসিয়া পুঞ্জি পক্ষে এর আগে ৩০ বস্তা চাল তুলে দেন। এধরণের দূর্যোগ মোকাবেলায় আগামীতে সরকার তথা প্রশাসনের পাশে থাকার কথা জানান পুঞ্জি প্রধান ও খাসিয়া সম্প্রায়।
শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে অফিসার্স ক্লাব ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের দেয়া এক লাখ ২৮ হাজার টাকায় বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে শপ-২০ নামে একটি ভ্রাম্যমান দোকান খোলা হয়েছে। যেখানে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২০০টাকায় পরিবার প্রতি এক প্যাকেট খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। যেখানে থাকছে চাল, ডাল, চিনি, আটা, লবণ, তেল, পেঁয়াজ, আলুসহ খাদ্যসামগ্রী।
প্রতিদিন উপজেলার ১৫-১৬টি দূর্গম এলাকার অসহায় মানুষরে কাছে খাদ্য পৌছে দিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসনের শপ-২০ ভ্রাম্যমান দোকান।এটা সম্পূর্ণ অলাভজনক সহায়তার দোকান। এর মধ্য দিয়ে আমরা কিছু মানুষ সহায়তা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠীকে বর্তমানে আমাদের সহায়তা করার কথা সেখানে তারাই উল্টো আমাদের সাথে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। এ মহতি কাজের জন্য তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এভাবে সবাই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে অনেক বড় দূর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।
এসময় তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ‘আপনি ঘরে থাকুন, আমরা আসছি আপনার ঘরে’ আর অর্ডার করুন আমাদের হট লাইনে- ০১৭০০-৭১৭১৩৮
