কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়ন আ.লীগের এক নেতাকে রাতের আধারে বাড়ি ফেরার পথে সংঘবন্ধ দুর্বৃত্ত চক্র হত্যা করেছে।
আরোও পড়ুন: সাধারণ ছুটি ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হলো
রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় রহিমপুর ইউপির রামচন্দ্রপুর গ্রামের ধলাই নদী সংলগ্ন খেলার মাঠ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তি রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আলতা মিয়া (৫৫)। তিনি রহিমপুর ইউপি আওয়ামীলীগের সিনিয়র সদস্য।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সরেজমিন গেলে নিহতের পরিবার সদস্য ও গ্রামবাসীরা জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টায় আলতা মিয়া মির্তিংগা চা বাগান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার বাড়ির অদূরে ধলাই নদীর তীরবর্তী ফুটবল মাঠ অতিক্রমকালে একদল দৃর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে তাকে কুপিয়ে গুরুতর অবস্থায় ফেলে যায়।
গ্রামবাসীরা তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল হয়ে রাতেই সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবার পর তার মৃত্যু হয়। নিহত আলতা মিয়ার সন্তানরা বলেন, তাদের বাবার সাথে আওয়ামীলীগের একটি অংশের বিরোধ ছিল।
তাছাড়া ধলাই নদীর বালু ঘাটের ইজারা নিয়ে ইজারাদারের সাথে একটি পক্ষের মামলা ছিল। সে মামলায় এ গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে কুখ্যাত ডাকাত ইব্রাহীম মিয়া আসামী ছিলেন। ডাকাত ইব্রাহীম মনে করতো তাদের বাবা (আলতা মিয়া) এ মামলায় তার নাম ঢুকিয়েছেন। এ নিয়ে ইব্রাহীম ও তার অনুসারীরা বেশ কিছু দিন ধরে তাদের বাবা (আলাতা মিয়াকে) হুমকি দিচ্ছিল। তারা মনে করেন ইব্রাহীমের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্রই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
তারা আরও বলেন, মৃত্যু আগে তাদের বাবা যারা তাকে কুপিয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করে গেছেন। গ্রামবাসীরা জানান, কয়েক বছর আগে এ গ্রামে আরও একটি খুন হয়েছিল। সে ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলখ শাস্তি দাবি করেছিলেন আলতা মিয়া। সে হত্যকান্ডের এক আসামী পালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলে যায়। সেখান থেকে টাকা সহায়তা দিয়ে ইব্রাহীম ডাকাত ও তার সহযোগীদের দিয়ে রোববার রাতে আলতা মিয়াকে হত্যা করেছে বলে গ্রামবাসীরা মনে করেন।
রহিমপুর ইউপির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বলেন, আওয়ামীলীগের একটি নিবেদিত সদস্য ছিলেন আলতা মিয়া। তিনিও মনে করেন ডাকাত ইব্রাহীমের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্র এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটে আলতা মিয়ার ময়না তদন্ত শেষে লাশ বিকেলে রামচন্দ্রপুর গ্রামে আসবে। এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, তিনি সরেজমিন যাবেন। পুলিশ বিষয়টি দেখছে।নিহতের পরিবার থেকে মামলা দিলে তার আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হব।
