প্রশিক্ষিত হাতি সব ভেঙে দিলেও মসজিদ ভাঙতে রাজি হয়নি

0
প্রশিক্ষিত হাতি সব ভেঙে দিলেও মসজিদ ভাঙতে রাজি হয়নি
প্রতীকী ছবি

বিশ্ববার্তা ডেস্ক: ভারতের বর্তমান বিজেপি সরকার আসাম রাজ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে তবে সে অভিযানে প্রশিক্ষিত হাতি সব ভেঙে দিলেও মসজিদ ভাঙতে রাজি হয়নি।

ভারত সরকারের এ অভিযান কোন ‘অনুপ্রবেশকারী’ নয়, এবার ভারতীয় নাগরিকদেরই উচ্ছেদ করতে শুরু করেছে তার সরকার।আর এক্ষেত্রেও উচ্ছেদ অভিযানের টার্গেট হচ্ছে আসামের সংখ্যালঘু মুসলিমরা।

অবশ্য এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য আসাম সরকার একটি যুক্তি খাড়া করেছে তা হলো- বনাঞ্চলের খালি জমিতে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করা অবৈধ।

এই অভিযানে ১০টি প্রশিক্ষিত হাতি ব্যবহার করা হয়।কারণ- অনেক ক্ষেত্রেই পথ-দূর্গমতার জন্য বুলডোজার ব্যবহার করা সম্ভবপর হয় না।একেক সময় ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। বর্তমানে উচ্ছেদ অভিযানের নিশানায় রয়েছে বরাক উপত্যকা।

এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় সম্প্রতি একটি অবাক করা ঘটনা ঘটেছে কাছাড় জেলার ধলাই-রজনীখালে।কয়েক দিন ধরে চলা ওই এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১০০টি পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে দেয়া হয় হাতি, বনবিভাগের কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা।

কিন্তু যখন হাতি দিয়ে ওই এলাকায় স্থাপিত একটি মসজিদ ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয় দেখা যায় হাতিগুলো তাতে রাজি হচ্ছে না।কারণ হচ্ছে হাতিগুলো কোনো মতেই মসজিদের ধ্বংসকার্য চালাতে রাজি হয়নি। ফলে সেখানেই উচ্ছেদ অভিযান শেষ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুন বনবিভাগের কয়েকটি হাতি নির্দেশমতো ঘরবাড়িগুলি উচ্ছেদ করে। কিন্তু ওই গ্রামের মসজিদের সামনে এসে হাতিগুলি দাঁড়িয়ে পড়ে এবং পরে তারা বসে যায়।এই উচ্ছেদ অভিযানের পরিচালক জেলা বনবিভাগের আধিকারিক সানিদেও চৌধুরি এবং পুলিশ অধিকর্তারা বহু চেষ্টা করেও হাতিগুলির দ্বারা মসজিদটিকে ভাঙতে সক্ষম হননি।

এই অভিযানে অংশগ্রহণকারী এক মাহুত রাজেন কৈলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাতি হচ্ছে ভগবানের প্রতীক।তাই তারা ভগবানের ঘর ভাঙতে রাজি হয়নি।আর সে জন্য হাতিগুলি আমাদের নির্দেশও মানেনি এবং পরে হতিগুলো বসে যায়।’ এই বিষয়টি আসাম রাজ্যের জনসাধারনে মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

আরো পড়ুন: সামান্য কয়টা টাকা হলেই বাচানো সম্ভব অবুজ এই ছোট্ট শিশু রুমিকে, পিতার আকুল আবেদন

ধলাই-রজনীখালের বনাঞ্চলের এক পাশে খালি জমিতে উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলোর বেশিরভাগই ছিল কাছাড়ের স্থানীয় মুসলিম। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা ওই স্থানে বসবাস করছিল। সূত্র : ই-টিভি ভারত

আপনার মতামত দিন
Exit mobile version