এবারের ছুটিতে ঘুরে আসুন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ

0
208
এবারের ছুটিতে ঘুরে আসোন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ
এবারের ছুটিতে ঘুরে আসোন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ

পর্যটকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর অপার লীলাভূমি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ।এবারের ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ। মন মুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে সৃষ্ট সর্বাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলায়।

কমলগঞ্জ পর্যটন স্থানগুলি

পর্যটন শিল্পে ভরপুর অপার সম্ভাবনাময় এই উপজেলায় ২০টিরও বেশি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে।বন্য প্রাণীর আবাসস্থল, চারিদিকে চা বাগান আর পাহাড়ী গাছপালায় বেষ্টিত, উঁচু পাহাড়ে পাহাড়ী সম্প্রদায়ের বাস্বস্থানসহ ভিন্ন সুন্দর্য রয়েছে মন জুড়িয়ে যাবে।

  • লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
  • পদ্ম কন্যা নয়ানাভিরাম মাধবপুর লেক,
  • গহীন অরণ্যে হামহাম জলপ্রপাত,
  • ফিকল জলধারা
  • বণ্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য রাজকান্দি বন,
  • বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ,
  • বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রাজ কান্দি বন,
  • শমশেরনগর বিমানবন্দর,
  • শমসেরনগর বাগীছড়া লেক,
  • ঐতিহ্যবাহী লক্ষীনারায়ন দিঘী,
  • ২০০ বছরের প্রচীন ছয়চিরী দিঘী,
  • আলীনগর পদ্মলেক,
  • মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ড,
  • অপরূপ শোভামন্ডিত উঁচু নিচু পাহাড়বেস্টিত সারিবদ্ধ চা বাগানসহ বাংলাদেশের বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মণিপুরী সম্প্রদায়ের নিরাপদ আবাসস্থল প্রকৃতির পূজারী খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীসহ গারো, সাঁওতাল, টিপরা ও গারোদের নিরাপদ আবাসস্থল রয়েছে এই উপজেলায়।

নাগরিক জীবনের শতব্যস্ততার মধ্যে একটু ছুটি মিললেই অনেকেই ছুটে যান সাগর-পাহাড়-অরণ্য ও ঐতিহ্যের সান্নিধ্যে। ঐতিহাসিক স্থানগুলোও মুখরিত হয় পর্যটক দর্শনার্থীদের পদভারে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি।পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকদের বরন করতে প্রস্তুত কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।এসব পর্যটন কেন্দ্রগুলোও পর্যটকদের বরণ করতে ইতিমধ্যে সেরে নিয়েছে সাজসজ্জা। ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভৃমি পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে ছুটে আসেন নানা শ্রেণীর নানা পেশার হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক।

ইতিমধ্যে বন বিভাগের রেস্টহাউজের পাশাপাশি হীড বাংলাদেশের রেস্ট হাউজসহ অন্যান্য রেস্ট হাউস ও হোটেলগুলোর রুম অগ্রীম বুকিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটক পুলিশের পাশাপাশি কমলগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এবার নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উপজেলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবনধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ জনপদে অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সাথে সদ্য আবিস্কৃত নতুন সংযোজন ফিকল জলধারা যে কোনো পর্যটকের দৃষ্টি কেড়ে নেবে। তাই তো পবিত্র ঈদুল ফিতরে এসব আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

এবারের ছুটিতে ঘুরে আসোন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভৃমি কমলগঞ্জের বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রেইন ফরেস্ট লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে দর্শণীয় ও আকর্ষণীয়। লাউয়াছড়া দেশের ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে একটি। এ উদ্যানে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সবুজ বৃক্ষরাজি। বিশ্বের বিলুপ্ত প্রায় জীব উল্লুকসহ কয়েকটি জন্তু ও বিলুপ্ত প্রায় কয়েকটি মূল্যবান গাছ গাছালির শেষ নিরাপদ আবাসস্থল হল লাউয়াছড়া। এই উদ্যান ভ্রমন পিপাষুদের জন্য এখন একটি আকর্ষনীয় স্থান। ১৯৯৬ সালে ১২৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে লাউয়াছড়াকে ঘোষণা করা হয় জাতীয় উদ্যান হিসেবে।

মাধবপুর লেক

এবারের ছুটিতে ঘুরে আসোন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ
মাধবপুর লেক

এখানকার পাহাড়ি উঁচু নিচু টিলার মাঝে দৈর্ঘে প্রায় ৩ কিঃমিঃ পানির হ্রদ ও তার শাখা প্রশাখা, চারপাশে পাহাড়ি টিলার উপর সবুজ চা বাগানের সমারোহ, জাতীয় ফুল দুর্লভ বেগুনী শাপলার আধিপত্য, ঝলমল স্বচ্ছ পানি, ছায়া নিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে। এ উপজেলায় পাহাড়ি উঁচুনিচু টিলার উপর সবুজ চা বাগান, জাতীয় ফুল দুর্লভ বেগুনি শাপলার আধিপত্য আপনাকে আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করবে পদ্মকন্যা মাধবপুর লেক। মাধবপুর লেকের দৃশ্য উপভোগ করে বেরিয়ে এসে একই রাস্তায় প্রায় ১০ কিঃমিঃ যাওয়ার পরই বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকে।

হামহাম জলপ্রপাত

এবারের ছুটিতে ঘুরে আসোন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ
হামহাম জলপ্রপাত

কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিঃমিঃ পূর্ব-দক্ষিণে রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিট এলাকার প্রায় ১০ কিঃমিঃ অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাত। স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসীরা এ জলপ্রপাত ধ্বনিকে হামহাম বলে। তাই এটি হামহাম নামে পরিচিত। সেখানে সরাসরি যানবাহন নিয়ে পৌঁছার ব্যবস্থা নেই। কুরমা চেকপোস্ট পর্যন্ত প্রায়২৫ কিঃমিঃ পাকা রাস্তায় স্থানীয় বাস, সিএনজি, জিপ ও মাইক্রোবাসে যেতে হয়। বাকি ১০ কিঃমিঃ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। সেখান থেকে প্রায় ৫ কিঃমিঃ দূরে সীমান্ত এলাকায় ত্রিপুরা আদিবাসী পল্লী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা তৈলংবাড়ী কলাবন বস্তি থেকে পায়ে হেঁটে রওয়ানা হতে হবে। প্রায় ৬ কিঃমিঃ পাহাড় টিলা ও ২ কিঃমিঃ ছড়ার পানি অতিক্রম করে ৩ ঘন্টা পায়ে হাঁটার পর ১৬০ ফুট উচ্চতার হামহাম জলপ্রপাতের দেখা পাওয়া যাবে। হামহাম জলপ্রপাত ভ্রমণ করতে পুরো একদিনের প্রয়োজন।

ফিকল জলধারা

এবারের ছুটিতে ঘুরে আসোন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ
ফিকল জলধারা

সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সীমান্ত এলাকার গহীন বনে হামহামের পর সন্ধান পাওয়া গেছে এক দৃষ্টি নন্দন জল ধারার। সংরক্ষিত বনের ভেতরে বড় ফিকল নামক এলাকায় দেখা মিলে প্রকৃতির অপরূপ এ জলধারার। জল ধারাটি যতটা না অবিশ্বাস্য,যতটা না অলৈাকিক তার চাইতেও বেশি এর সৌন্দর্য। আপন খেয়ালে এখানে পাহাড়ের উপর জলরাশি সঞ্চার করে তৈরি করেছে হ্রদ।আপন খেয়ালে এখানে পাহাড়ের উপর জলরাশি সঞ্চার করে তৈরি করেছে হ্রদ। সমতল থেকে প্রায় ১০০ ফুট উপরে পাহাড়ের চূড়ায় বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত এ জলাশয়।’ দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চলে আসুন কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে। সেখান থেকে বাস অথবা সিএনজিতে কুরমা চা বাগান। সেখান থেকে ভাড়ায়চালিত সিএনজিতে আঁকাবাঁকা কাদা মাটির উঁচুনিচু পাহাড়ি এলাকার কুরমা চা বাগানের ভেতর দিয়ে যেতে হবে কুরমা খাসিয়া পল্লী। খাসিয়া পল্লীর পাশেই গিরি পথের শুরু। সেখান থেকে পাহাড়ি গিরির পাশ দিয়ে বনের সরু পথে উঁচুনিচু পাহাড়ি টিলা অতিক্রম করে, কখনো পাহাড়ি গিরি পথ দিয়ে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছা সম্ভব দৃষ্টিনন্দন এ জলধারায়।

ডবলছড়া খাসিয়া পল্লী

এছাড়া ঘুরে আসতে পারেন ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ডবলছড়া খাসিয়া পল্লী থেকে। ডবলছড়া খাসিয়া পল্লীতে আড়াইশ’ ফুট উপরের হেডম্যান বা মন্ত্রীর বাংলোটি দেখতে খুবই সুন্দর।

শমশেরনগরে বিমান বন্দর

এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরুর সময়ে ব্রিটিশ আমলে গড়ে উঠেছে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বিশালাকার বিমান বন্দর। বর্তমানে এখানে আরটিএস (রিক্রুট ট্রেনিং) স্কুল স্থাপন করায় ভেতরে প্রবেশ করে ভ্রমন করা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট এলাকায় পতিত ভূমিকে কাজে লাগিয়ে কাঁঠাল, আনারস, লিচু, কুল, ধান, আলুসহ নানা জাতের ফল, কৃষি ও মৎস্য খামার গড়ে তোলা হচ্ছে। শমশেরনগর বিমান বাহিনীর সংরক্ষিত এলাকা সংলগ্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমির উপর একটি স্মৃতি সৌধও নির্মিত হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর সড়কেই রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত দৃষ্টিনন্দন বিএএফ শাহীন কলেজ।

পথিমধ্যে শমশেরনগর চা বাগানের দু’টো প্রাকৃতিক হ্রদ, একটি গলফ মাঠ ও ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতাল যে কোন পর্যটকের নজর কাড়বে।

এবারের ছুটিতে ঘুরে আসোন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ
পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ

আরোও পড়ুন: ঘুরে আসুন চট্রোগ্রাম পর্যটন কেন্দ্র

এছাড়াও ভ্রমণের জন্য রয়েছে-কমলগঞ্জে পাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের নিরব সাক্ষী বিভিন্ন বধ্যভূমি, ব্রিটিশদের শোষনের প্রতীক তিলকপুর নীলকুটি, ঘটনাবহুল মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ড, বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ মনিপুরী সম্প্রদায়সহ টিপরা, খাসিয়া, গারো সমাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এলাকা সমূহ।এবারের ছুটিতে ঘুরে আসুন পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জ যা পুরো এক সপ্তাহ ঘুরলেও পর্যটনস্থান গুলো দেখা শেষ হবে না। [মোঃ আহাদ মিয়া কমলগঞ্জ প্রতিনিধি]

আপনার মতামত দিন