করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোন খাবার খেতে হবে এবং করণীয় কি?

0
59
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোন খাবার খেতে হবে এবং করণীয় কি
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোন খাবার খেতে হবে এবং করণীয় কি

বিশ্ববার্তাডেস্ক: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোন খাবার খেতে হবে এবং করণীয় কি? প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রধান আক্রান্তের স্থান হলো ফুসফুস। যদি করোনা ভাইরাস ফুসফুসে সংক্রমণ হলে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট, যার ফলে মৃত্যুও হতে পারে। তাই এই ভাইরাস থেকে বাচার জন্য ফুসফুস সুস্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

তাই ফুসফুসকে সুস্থ ও ভালো রাখা জরুরি। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার অন্যতম অঙ্গ ফুসফুস। আর এই ফুসফুস সুস্থ রাখার বিষয়ে খাদ্যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কী খেতে হবে:

পুষ্টিবিদ বিজয়া আগরওয়াল বলেন, শাক-সবজি, আলু, পটল, কুমড়ো-গাজর বেশি করে খান। খোসা না ছাড়িয়ে তরকারি করে খেতে পারলে আরও ভাল।এছাড়া ময়দার বদলে খান আটার রুটি, সাদা ভাতের বদলে ব্রাউন রাইস, কিনোয়া, বার্লি ইত্যাদি। এতে ফুসফুসের ক্ষতি যেমন কম হবে, ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এছাড়া পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের জন্য ভালো। তাই সবুজ শাক, টমেটো, বিট, আলু, কলা খান নিয়মিত। আর প্রোটিনের জন্য মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই, ডাল, ছোলা খান।

ফুসফুসের স্বাস্থ্য তথা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি অবশ্যই পান করতে হবে। এতে রক্তের ঘনত্ব ঠিকঠাক থাকে বলে সারা শরীরের সঙ্গে ফুসফুসেও রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। ফুসফুসের শ্লেষ্মা পাতলা থাকে। ফলে বাতাসের বিষ, জীবাণু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বের করে দিতে সুবিধে হয়।

যেসব খাবার খাবেন

কয়েকটি বিশেষ খাবার রয়েছে যা ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় বলে জানিয়েছেন সাস্থ বিজ্ঞানীরা। আসুন জেনে নিই এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাবার সম্পর্কে-

লেবু : এটি ভিটামিনে ভরপুর যেমন ভিটামিন B₁,B₂,B₃,B₅,Fe, K, Zn, কার্বহাইড্রেট ভ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন সি, রিবোফ্লোবিন, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস সমৃদ্ধ এতে কোন সম্পৃক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরল নেই, খুব কম মাত্রার ক্যালোরী আছে, লেবুর প্রধান আকর্ষন ভিটামিন সি।এই ভিটামিন সি একটি গুরুত্ব পূর্ন উপাদান যা আপনার শরীরকে সক্ষম রাখতে সাহায্য করে। লেবু খেলেই প্রায় ৮৮% ভিটামিন সি চাহিদা পুরন করা সম্ভব। তাই লেবু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে কর্যকর।

পেঁয়াজ ও রসুন : পেঁয়াজ ও রসুন প্রদাহের প্রবণতা কমায় ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়। ‘জার্নাল অব ক্যানসার এপিডেমিওলজি’ ও ‘বায়োমার্কারস অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এ প্রকাশিত প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যেসব ধূমপায়ী কাঁচা রসুন খান তাদের ফুসফুসের বিভিন্ন অসুখে ভোগার আশঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়।

আদা : আদা কুচি নিয়মিত খেলে ফুসফুস ভাল থাকে।

কাঁচা মরিচ : কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। সংক্রমণের আশঙ্কা কমে।

হলুদ : হলুদের কারকিউমিন প্রদাহ কমায়।

ফল সবজি

আপেল, পেয়ারা, শসা, সফেদা- এসব ফল ফুসফুসের জন্য খুবই উপকারী খাদ্য। আপেল ও বাতাবি লেবুর ফ্ল্যাভেনয়েড ও ভিটামিন সি ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায়। এছাড়া গাজর, কুমড়ো, বেল পেপারে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি। সারা শরীরের পাশাপাশি ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এসব সবজি।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

আপনার মতামত দিন