আমি ১৯৪৮ এর মাতৃভাষা আন্দোলনের গোড়াপত্তন দেখিনি। দেখিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯, ৭১, এমনকি ৯০এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন।
কিন্তু দেখেছি ২০১৮। শুধু তাই নয়, দেখেছি ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করতে ছাত্র সমাজের অদম্য প্রতিভা, আর স্পৃহা। তাদের সাথে রাজপথে থেকে শিখেছি সত্য বলার সাহস।
আজ অনেকেই হয়ত চাকরি পাবে, যারা কোটা ব্যবস্থার বৈষম্যের কারণে চাকরি পেত না। কিন্তু তারা যে কোটা সংস্কার না হলে চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতো এটা তারা হয়ত উপলব্ধিও করতে পারবে না।
সংস্কার কথাটি এজন্যই বলেছি কারণ আন্দোলনটা ছিল মূলত কোটা সংস্কারের যাই হোক, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে ২০১৮’র রয়েছে গভীর মিল।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের, “আঠারো বছর বয়স” কবিতায় পেয়েছিলাম ১৮’র তাত্ত্বিক জ্ঞান আর আঠারো সালে এসে তার পেলাম ব্যবহারিক জ্ঞান। আঠারো আসলেই এক অদম্য প্রতিভা আর সাহসের নাম।
স্রোতের অনুকূলে ভেসে যাওয়ার নাম আঠারো নয়, স্রোতের প্রতিকূলে নিজের গতি ধরে রাখার নাম আঠারো। আসলেই সময়, বয়স আর সাহসে আঠারোর বিশেষ কর্তৃত্ব রয়েছে। তার প্রমাণ দেখিয়েছে ২০১৮’র তরুণ-তরুণীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা যেকোনো সময় প্রতিবাদী কণ্ঠকে জাগিয়ে তোলার দৃষ্টান্ত দিয়েছে। রাজনৈতিক দাঙ্গাহাঙ্গামাকে উপেক্ষা করে ছিনিয়ে নিয়েছে নিজেদের অধিকার। জাতিকে শিখিয়েছে প্রতিবাদের ভাষা।
আজ যেকোনো অন্যায়, অনিয়ম, অত্যাচার, অনাচারে ছাত্র-সমাজ প্রতিবাদ করার ভাষা খুঁজে পেয়েছে। সেদিন সড়ক আন্দোলন থেকে ছাত্র-সমাজ এম্বুলেন্সকে আলাদা লেন করে দিয়ে দেখিয়েছে মানব সেবা। শিখেছে মানবতা। আইনের দোহাই দিয়ে যারা আইন অমান্য করে তাদের লাইসেন্স ছাড়া গাড়িগুলো জাতির দৃষ্টিগোচর করে ছাত্র-সমাজ শিখেছে সত্যের শিক্ষা ও মিথ্যার পরিণতি। আশাকরি আরেকটি আঠারো আশার আগমূহুর্ত পর্যন্ত এ শিক্ষা চলমান থাকবে। দেশ, জাতি ও সুন্দর পৃথিবী গড়ায় ছাত্রসমাজের ভুমিকা হোক অগ্রগণ্য।
ফোরকান বিন ফরিদ। যুগ্ম-আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সরকারি তিতুমীর কলেজ।
[ মোঃজুয়েল,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ]
