ডেস্ক বার্তা: ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশের বিভিন্ন এলাকার ৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪২ জনের মৃত্যু ও ৩২৪ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ৩০ মে থেকে রবিবার ৯ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে সারা দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সোমবার(১০জুন) নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ যাতায়াত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনা সহ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবার সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাত্রীরা প্রত্যাশিত সেবা পায়নি।
বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, অনলাইন নিউজপোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দূরপাল্লার সড়ক-মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট ছিল না। নৌ ও রেলপথ ছিল সড়ক দুর্ঘটনা মুক্ত। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপনা ভালো থাকায় পদ্মার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল নিরবিচ্ছিন্ন ছিল। এর ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগও ছিল স্বাভাবিক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঈদ-সার্ভিসে পর্যাপ্তসংখ্যক লঞ্চ থাকায় ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল থেকে উপকূলীয় জেলাগুলোর সঙ্গে নৌ যোগাযোগ ছিল স্বাভাবিক এবং যাত্রীভোগান্তিও কম ছিল। তবে এক শ্রেণির নৌ শ্রমিক ও কর্মচারিরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছেন।
অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ঈদ-যাত্রার প্রথম দিন থেকে সড়ক দুর্ঘটনা না থাকলেও দূরপাল্লার অনেক ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে অসংখ্য যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে।
ঈদের আগে ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-পাটুরিয়া ও ঢাকা-ময়মনসিংহসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন সড়কে অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায় করা হয় কিন্তু প্রশাসন তা বন্ধ করতে পারেনি।এমনকি লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহনও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও রাজধানীর মধ্যে চলাচলরত বাস ও অটোরিকশাগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করেছে।
এমনকি উবার ও পাঠাও’র মতো রাইড শেয়ারিং যাত্রী বহনকারি কোম্পানিগুলোও ঈদ-ছুটিতে তাদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।
