দাদিকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেসবুক লাইভে যুবক

0
দাদিকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেসবুক লাইভে যুবক
দাদিকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেসবুক লাইভে যুবক

বিশ্ববার্তা ডেস্ক : দাদিকে কুপিয়ে হত্যা করার পর একই অস্ত্র দিয়ে নিজের বাবা-মাকেও জখম করেছে এক যুবক। খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে।

সোমবার (১০জুন) সকালে দিকে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়া থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও দমকলবাহিনীর সদস্যরা এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসার পর দেখেন ওই যুবক ফেসবুকে লাইভ করছেন।

দাদিকে কুপিয়ে হত্যাকারী যুবকের নাম ইন্দ্রনীল (২৩)। চুঁচুড়ার ব্যান্ডেলের কেওটা শিবতলা এলাকায় রেল-কর্মচারী বিশ্বজিৎ রায়ের  একমাত্র ছেলে ইন্দ্রনীল। দাদি আরতি রায়ের (৮৩) সঙ্গেই দুতলায় থাকতেন ইন্দ্রনীল। অন্য দিকে, স্ত্রী তাপসীকে নিয়ে একতলায় থাকতেন বিশ্বজিৎ।

গ্রেফতারের পর ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সন্তোষজনক জবাব পাননি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। অসংলগ্ন নানা জবাব দিয়ে ইন্দ্রনীল বলেছে, ‘আমি খুন করিনি। কতগুলো লোক ঘুরছিল বাড়ির বাইরে। তারাই মেরেছে।’ তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মানসিক অবসাদে ভুগছে শ্রীরামপুর কলেজের সাবেক এই ছাত্র।

পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরের দিকে দোতলার ঘর থেকে আওয়াজ এবং চিৎকার শুনতে পান বিশ্বজিৎ। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে যান। দোতলায় উঠতেই তার দিকে একটি ধারালো খুন্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন ইন্দ্রনীল। সজোরে সেই খুন্তি দিয়ে বাবার বাম হাতে কোপ মারেন। বিশ্বজিতের চিৎকার শুনে তার স্ত্রী তাপসী দেবী ওপরে আসেন। তাকেও আক্রমণ করে ছেলে।

এমন চিৎকার শুনে পাশের বড়ি থেকে প্রতিবেশীদের কয়েকজন চলে আসেন ওই বাড়িতে। তাপসী দেবী দরজা খুলে দেন। এর পর বিশ্বজিৎকে একতলায় নামিয়ে এক প্রতিবেশী দোতলার সিঁড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। খবর দেয়া হয় চুঁচুড়া থানায়। সেসময়  তারা আরতি দেবীর খবর জানতেন না। স্থানীয়দের খবর পেয়েও পুলিশ আসতে দেরি করে। ইতোমধ্যে দোতলা থেকে ছাদে উঠে যায় ইন্দ্রনীল। পাড়া-প্রতিবেশীরা ততক্ষণে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন রায়-বাড়ির সামনে।

তারপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ এসে ইন্দ্রনীল বাড়ির ছাদে ঘুরে বেড়াতে দেখে। পুলিশ সদস্যরা তাকে নেমে আসতে বললেও এতে কোনো কাজ হয়নি। এর পর খবর দেয়া হয় দমকল বাহিনীকে।

এর মাঝেই পুলিশের নির্দেশে দোতলার সিঁড়ির তালা খুলে দেয়া হয়। ওপরে গিয়ে আরতি দেবীর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ।

নিচে নেমে আসেন ইন্দ্রনীল। একতলায় এসে মোবাইল বের করে গ্রিলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ এবং প্রতিবেশীদের তাক করে ফেসবুক লাইভ করতে থাকেন তিনি। একই সঙ্গে চলতে থাকে অসংলগ্ন কথাবার্তা। যারা সেই সময় তার ফেসবুক লাইভ দেখছিলেন, তাদের সঙ্গেও কথা চালাচালি করেন ইন্দ্রনীল। তাকে লিখতে দেখা যায়, ‘এই নরক থেকে আমাকে উদ্ধার করো।’ পরে পুলিশ তাকে ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করে।

বিশ্বজিৎ ও তাপসী দেবীর সঙ্গে সেই আরতী দেবীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানান, আরতী দেবী মারা গিয়েছেন। আর ছেলের খুন্তির কোপে বিশ্বজিতের বাম হাত কেটে এবং ভেঙে গিয়েছে । সুত্র: আনন্দবাজার

আপনার মতামত দিন
Exit mobile version