বিশ্ববার্তা ডেস্ক: .ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডব শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। ভেঙ্গে পড়ছে বেড়ি বাধঁগুলো।
ইতিমধ্যে আম্পানের প্রভাবে পটুয়াখালীর কমপক্ষে পাঁচটি গ্রাম বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে। সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ ভেঙে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপার গোলখালী ও বাউফলে ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে।
আরো পড়ুন: প্রতিপক্ষের হামলা!পল্লী চিকিৎসক সন্তাকে বাচাঁতে মায়ের বুক ক্ষত বিক্ষত- আহত ৬
সেসব এলাকার স্থানীয়রা বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলার মাঝের চর, চর আন্ডা, চর মোন্তাজ, চালিতাবুনিয়াসহ পাঁচটি গ্রাম আম্পানের প্রভাবে ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে।
সেসব এলাকার পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষদের নিকটবর্তী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘চর মোন্তাজ ও চর আন্ডার পানিবন্দিদের ট্রলার করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
এছাড়াও, গলাচিপার গোলখালী, বাউফলের কয়েকটি এলাকার বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে।
এদিকে, পটুয়াখালী জেলার কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই পটুয়াখালীর ৩ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও পটুয়াখালীতে ৮০ হাজার ১৬৭টি গবাদিপশু ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।আসংঙ্কা করা হচ্ছে বিকেল পাঁচটার দিকে দ্বিতীয় জোয়ারের সময় আম্পানের প্রভাবে আরো বড় বিপদে হতে পারে।
বরগুনার ফেরিঘাটের বাসিন্দা আবদুল খালেক বলেন, বিষখালী নদীর এই এলাকায় জোয়ারের পানি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে ফেরির গ্যাংওয়েসহ সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এসময় তিনি বলেন, জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিকের থেকে ৫/৭ ফুট বেশি না হলে এখানে সাধারণত পানি ওঠে না।
এ বিষয়ে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক মো. মাহতাব হোসেন বলেন, সকাল এবং দুপুরের দিকে এসব নদীর পানি যেটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তা স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে অনেক বেশি। আজ সকাল নয়টায় বরগুনায় জোয়ারের উচ্চতা ছিল ২.৮৫ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার সমান ।
এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগেই আমাদের সতর্ক করেছে।
জেলায় ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল যা আমরা মেরামত করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরও বলেন, বরগুনার প্রধান তিনটি নদীতে জোয়ারের উচ্চতা ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পাওয়ার খবর আমি পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও লোকালয় প্লাবিত হওয়ার খবর পাইনি তবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
