ঘুষের কথা স্বীকার করার পরও স্বপদে বহাল ডিআইজি মিজানুর রহমান-বিস্মিত টিআইবি

0
ঘুষের কথা স্বীকার করার পরও স্বপদে বহাল ডিআইজি মিজানুর রহমান-বিস্মিত টিআইবি
ঘুষের কথা স্বীকার করার পরও স্বপদে বহাল ডিআইজি মিজানুর রহমান-বিস্মিত টিআইবি

বিশ্ববার্তা ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক যখন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তখন সাধারন মানুষের আস্থার জায়গা অন্ধকার।এমনি এক (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বশির এবং পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠে। টিআইবি এই দুজনের তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

ডিআইজি মিনাজুর নিজের মুখে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করার পরও কী করে স্বপদে বহাল রয়েছেন তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থাটি।

সংস্থাটি বলছে, তদন্ত কর্মকর্তার দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুদক কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। ঘুষ লেনদেনে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি দুদকেরও দায় রয়েছে।

আজ এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, দুদক ও পুলিশ দুটি সংস্থার ওপর থেকেই মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে তারা জনগণের আস্থা ফিরে পেতে পারে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আমরা জেনেছি যে ‘তথ্য পাচার, চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণের অভিযোগে’ খন্দকার এনামুল বশিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুদকের তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ করেছে। দুদকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘকালের পুঞ্জীভূত সমস্যা, যার কথা সবাই জানে। দুদক কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এ বিষয়ে এর আগেও একাধিকবার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু তা বাস্তবে কোনো কার্যকর ফল দেয়নি, তার প্রমাণ এই আলোচিত ঘটনা।”

ড. জামান বলছেন, “ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না- দুদকের এমন অবস্থান আমাদের শুধু হতাশই করেনি বরং আমরা বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত বোধ করছি। একজন উচ্চপদস্থ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণসহ দুর্নীতির অভিযোগ আসার পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল দুদক একে একটা প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে এবং তাদের অন্য কোনো কর্মকর্তা যে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত নন তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। দুদক নিজেই যদি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে, তাহলে তাদের কার্যক্রমের ওপর জনগণের আস্থা থাকবে কি করে?”

পাশাপাশি ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ থেকে অব্যাহতি পেতে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান রহমান ঘুষ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করার পরও তার স্বপদে বহাল থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলছেন, “ঘুষ লেনদেনে জড়িত দুই পক্ষই সমানভাবে দায়ী। বিশেষ করে যখন কোনো ব্যক্তি দুর্নীতির অভিযোগ থেকে পার পেতে ঘুষ দেন, তখন তার অপরাধের মাত্রা আরও গুরুতর হয়। অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে আমরা জেনেছি যে, পুলিশ প্রশাসন এখনও কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। তারা তদন্ত করে দেখার কথা বললেও সেটা কবে শুরু বা শেষ হবে তা আমরা জানি না। আমরা এটাও জানিনা যে শেষ পর্যন্ত এই অভিযোগও ধামাচাপা পড়ে যাবে কি না।

আরোও পড়ুন: ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত সকল খরচ দিবে সরকার বললেন ডা.দীপু মনি

তিনি আরোও বলেন, ‘নারী নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকার পরও যখন এই পুলিশ কর্মকর্তা স্বপদেই বহাল রয়েছেন, তখন এমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।পুলিশ প্রশাসন তাদের ওপর জনগণের আস্থা সম্পর্কে কোনো তোয়াক্কা করে কি না সেটাই এখন প্রশ্ন।”

আপনার মতামত দিন
Exit mobile version