বিশ্ববার্তা ডেস্ক: কয়েকদিন যাবৎ করোনা উপসর্গ শ্বাসকষ্ট, জ্বরে ভুগছিলেন এই বৃদ্ধ। তারই প্রেক্ষিতে তিনি গতকাল রাজধানীর একটি হসপিটালে করোনা টেস্ট করানোর জন্য লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাইনে সিরিয়াল নাপেয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পথে রাস্তায় হঠাৎ মারা যান বৃদ্ধ।
আরো পড়ুন: আবারো বেড়েছে ইতালিতে করোনা আক্রান্তে মৃত্যু সংখ্যা
গতকাল (৩মে রবিবার) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এসেছিলেন করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে এক বৃদ্ধ। এইসময় বৃদ্ধের সঙ্গী ছিল দুই ছেলে। তবে সিরিয়াল না পেয়ে বাসায় ফেরার পথে শাহবাগ মোড়ে হঠাৎ মাটিতে পড়েই মৃত্যু হয় ঐ বেৃদ্ধের।
ওই বৃদ্ধ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। তার ছেলে ইমনের বলেন, মাস ছয়েক ধরে ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন তার বাবা। কয়েকদিন ধরে জ্বর। তাই এসেছিলেন করোনার টেস্ট করাতে।
এভাবেই ঘটনাটির বর্ণনা নিজের ফেসবুকে লিখেছেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক সজল মাহমুদ। ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ফেসবুকে তিনি আরও লিখেছেন, বৈশাখের তপ্ত রোদ নির্লজ্জভাবে আলিঙ্গন করেছে সেই বাবার মরদেহ। মারা যাওয়া ব্যক্তির বড় ছেলে জানান, ওই বৃদ্ধ স্ট্রোক করেছেন। আর ছোট ছেলে ইমনের দাবি, মাস ছয়েক ধরে ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন তার বাবা। কয়েকদিন ধরে জ্বর। তাই এসেছিলেন করোনার টেস্ট করাতে।
রাস্তায় পড়ে যখন ধরফর করছেন তখন বাবাকে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন পাশেই থাকা বারডেমের জরুরি বিভাগে। সেখানে পাত্তা পাননি তিনি। পরে লাশ ঢাকতে একটা কাপড় চেয়েও মেলেনি। এই সময় কেহ এগিয়ে আসে তাদের সহায়তা করতে।
এই বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মারা যাওয়া ওই বৃদ্ধ করোনা টেস্ট করতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ বুকে ব্যাথা উঠে সেখানেই মারা যান তিনি।’
ওসি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তার দুই ছেলেও উপস্থিত ছিল। পরে আমরা তার ছেলেদের সহায়তায় লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’ পরবর্তীতে বৃদ্ধের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
